মুখের কোণে একটা মুচকি হাসি 😊, চোখ দুটো মায়াতে টলমল করতেছে 😍। মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়াটাই ওর জন্য উজার করে দেই। কি একটা অদ্ভুত আনন্দ, তাই না! কোলে নিতেই মনে হল হারিয়ে গেছে আমার দুই হাতের মাঝে 🤩। পায়ের পাতা দুটো এতই ছোট যে এই ছাপ বালি কনার উপরে পরলেও আবদ্ধ হবে না। প্রকৃতির আলো-বাতাস আর মায়ের দুধ ছাড়া সব কিছুই ওর কাছে মূল্যহীন। ভালোবাসার আর স্নেহ ছাড়া অন্যকিছু ওকে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের কারোরই নেই, বললে ভুল হবে না কিঞ্চিত ও।
দেখতে, দেখতে রক্ত মাংসের মাড়িতে দুটো দাঁত উঁকি দিচ্ছে। ওর সাথে খেলায় মজলে আনন্দটা কার বেশি? আজও দাঁড়িপাল্লায় ব্যাপারটা ঘোলাটে। আচমকা কান্নার শব্দ, তাকিয়ে দেখি ও মেঝেতে পড়ে গেছে 😢। চোখ দিয়ে পানি বের না হলেও কান্নার কম্পনে বিন্দুমাত্র স্বস্তির নিঃশ্বাস নেই। কিন্তু ভয়ের কিছু নেই ওকে শান্ত করার মন্ত্র আমার জানা আছে। ওকে দেখিয়ে এমন ভান করলাম - যেন, ওকে ব্যথা-দেওয়া নির্মম, পৈশাচিক মেঝের আজ রক্ষা নেই 🥶😆। এ জাদু যেন-তেন কোন মন্ত্র নয়। সফলতার হার একশতর নীচে নয়। জানিনা ওর ব্যথা কমেছে কিনা, কিন্তু এটা বলতে পারি ওই ব্যথা কে তোয়াক্কা করা সে শিখে গেছে।
সেই মাড়িতে আজ আক্কেল দাঁতের হুংকার। এখন অবশ্য আগের মতো দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে না। কিন্তু আজকে সে পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে সামলানো তে পরিপক্ক।
🅢🅞🅤🅡🅒🅔
আক্কেল দাঁত গুলো এখন আর ব্যথা দেয় না সে আজ মস্ত বড়। গাড়ি চড়ে হাওয়ার স্রোতে সে পাড়ি জমিয়েছে বন্ধুর পানে। একি কাণ্ড! মিষ্টি হাওয়ায় দুষ্ট গন্ধ। চিন্তা করবেন না, সে তো পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে সামলানো তে পরিপক্ক। নাকটা চেপে, বন্ধ করে, কিছু সময় দিল পারি। এই যে হাওয়া, এখন আবার মিষ্টি ভাড়ি। চোখ দিয়ে সে দেখেছে সবই, দুষ্ট লোকে মায়ের কোকে, বৈধতা ছাড়িয়্ চামড়া পুড়িয়ে, টাকার অংকে্ যোগান নিচ্ছে বাড়িয়ে। ওই যে সে তোয়াক্কা না করে নিতে পারে সামলিয়ে। বড়, বড় চোখ দুটি সে নিয়েছে নামিয়ে, মুখের আওয়াজ সে রেখেছে থামিয়ে। ফোনের ডায়েলে ঠাঁই পায়নি ৯৯৯ কোন কালে। প্রতিবাদের জোয়ার উঠার আগেই হয়ে গেছে চুরমার। দাফন করে নিতে জানে সে সব হাহাকার। এখন সে মস্ত জ্ঞানী, এসব ভেবে সে কি আর হবে ধনী?
বৃষ্টির সাথে চায়ের চুমুকে, কি আসে যায়, কেমন আছে ওই যে অমুক! আমার পাড়ের নদীর তীরে, ঠাঁই পাবে না তোমরা কেউ ওদের ভিড়ে। নিজের নীড়ে কাদের ঘিরে, কেন আমি মাতব ওই মনুষ্যত্বের তীরে?
এভাবে একদিন সব অজ্ঞতার ভিড়ে আমি আপনিও হারিয়ে যাব। সেদিন দ্বারে, দ্বারে ঘুরেও কারো নীড়ে আমরা নিজের অস্তিত্বের ছিটেফোঁটার জন্য সাহায্যের আহ্বান জানাতে পারবো না। আপনার আমার নীরবতা তিলে, তিলে শোষকদের এমন দুর্গ তৈরি করে দিবে যেখানে আমাদের চিৎকারের প্রতিধ্বনি তাদের দেয়ালের ইটে স্পর্শ পর্যন্ত হবে না। আমাদের চোখের দৃষ্টি এতটা শয়ে যাবে অন্যায়ের আঁধারে সূর্য বিহীন এ ম্লানতা আমাদের দান্দনিক হয়ে পড়বে। ওদের অন্যায়ের ঝুলি, নিজের কাধে নিয়ে লালন পালন করে, একদিন এত বড় করে দিব, ও দিন সুখের নকশা হাতে ও আলোর মশাল নিয়ে দু পা আগাতে পারবো না।
এভাবে আর কত? এই চোখ কবে বলবে? এই মুখ কবে প্রতিবাদ গড়বে? এই কান কবে হুংকার শুনবে? নিজেকে আর কত আধারে ঠেলবে? ওদের পাপের বোঝা ওরা কবে টানবে? আর কত নিজের খোঁজে নিজেকে নিখোঁজ করা? এ স্বাধীনতার বার্তা কবে পাবে চেতনার আস্তানা? এভাবে নির্বিশেষে দর্পণে পাবে কি নিজের বার্তা? নিজের খোঁজে স্বাধীনতার ভাজে, পথিমধ্যে বল সবে, শোষক এর গুষ্টি আমাদেরই সৃষ্টি, অন্যায়ের বেড়াজাল আজকে তোর হতে হবে বেহাল।