সময়ের সাথে সাথে হাজারো পরিবর্তনের মাধ্যমে আজ আমরা বসবাস করছি আধুনিক যুগে৷ আধুনিক যোগ! সেটা আবার কি? বিজ্ঞান, রাজনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবনে যেই পরিবর্তনটা এসেছে তাই আধুনিকতা। মানব সৃষ্টির একেবারে শুরু থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হাজারো পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে আজকের ওই আধুনিক সভ্যতা, আধুনিক মানুষ।
এই আধুনিক যুগে এসে একটু আধুনিক না হলে কি ভালোভাবে বেচে থাকা যাবে? প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মানুষ আজ এগিয়ে গেছে বহু দূরে। সবকিছুর সিস্টেমে এসেছে পরিবর্তন। তবে এই আধুনিকতার ভালোর সাথে সাথে রয়েছে অনেক খারাপ দিকও। এই সময়টায় এসে কিছু বিষয় অর্জন করাটাও আগের থেকে অনেক কঠিন হয়ে গেছে৷ বেড়েছে অনেক প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সবচাইতে খারাপ। এখানে চাকরি এক সোনার হরিন। কেননা এই দেশে আধুনিকতার ছাপটা নামেই বেশি পড়েছে, কাজের চাইতে।
এদেশের চাকরির বাজারে প্রতি এক সিটে প্রার্থী একশো জন। বুঝাই যাচ্ছে কতোটা প্রতিদন্ধিতা এখানে। ভাগ্যে, মেধা এবং মামা - খালা না থাকলে মনের মতো চাকরি পাওয়া বড়ই দায়। তবে কিছু জিনিস আপনাকে সব সময়ই এগিয়ে রাখবে। যেমন আপনার স্কিল। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু স্কিল আপনার মধ্যে থাকলে তা অবশ্যই আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।
তার মধ্যে অন্যতম একটি স্কিল হলো প্রেজেন্টেশন স্কিল। প্রেজেন্টেশন স্কিল হলো কতো সহজে ও সুন্দরভাবে কোন একটি বিষয় উপস্থাপন করা যায়। এই জিনিসটা বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে অনেক প্রভাব ফেলে। বর্তমান এই সময়টাতে অন্যান্য স্কিলের পাশাপাশি যার যতো প্রেজেন্টেশন স্কিল ভালো চাকরি বাজারে তার ততো ডিমান্ড বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাতে কিছু বিষয় অনেক বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তার মধ্যে একটি হলো প্রেজেন্টেশন। আসলে প্রেজেন্টেশন বিষয়টা সবচাইতে ভালোভাবে শিখা যায় বিশ্বাবিদ্যালয় জীবনেই। কেননা একেবারে প্রথম বর্ষ থেকেই চর্চা শুরু হয়।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে আমাদেরও জোর দেওয়া হয় প্রেজেন্টেশনের উপর। তখন এই বিষয়টা অনেক প্যারা লাগতো। সারারাত বসে বসে প্রিপারেশন নিয়ে বলতে গেলে সব ভুলে যেতাম। প্রেজেন্টেশনের আগে একে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামনে গিয়ে হাত-পা কাপাকাপি থামানোই যেতোনা। কিন্তু একের পর এক প্রেজেন্টেশন দিতে দিতে উন্নতি হয়েছে অনেকটাই। সময়ের ব্যাবধানে আমরা এখন বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই কোন বিষয় সকলের সামনে প্রেজেন্ট করতে সক্ষম।
তাছাড়া বর্তমানে কম্পিউটার স্কিল থাকা খুবই প্রয়োজন। কেননা এই যুগে কম্পিউটার ছাড়া খুব কম কাজই হয়ে থাকে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল এবং মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট এই বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া কমিউনিকেশন স্কিলটাও থাকা অনেক জরুরি।
পরিশেষে, এই আধুনিক যুগে কিছু বিষয়ে একটু আধুনিক না হয়ে চলতে পারাটা বড়ই দায়। আমাদের উচিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।