গ্রামের অজ্ঞ, মূর্খ লোকদের কাছে শুনেছিলাম, তারা বলতেন-“ক্ষেতে বেড়া দিলাম ক্ষেত রক্ষার জন্য, কিন্তু বেড়ায় দেখি ক্ষেত খেয়ে ফেলে”।প্রবাদটির মর্মার্থ তখন না বুঝলেও এখন আর বুঝতে কষ্ট হয় না। অহরহই এখন এ প্রবাদটির সত্যতা প্রমাণিত হয়।
ইলিয়টগঞ্জ এক্সপ্রেস। মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকা সার্ভিস। কথিত আছে- তা স্পেশাল সার্ভিস। কিন্তু বাস্তবে না দেখলে বুঝা মুশকিল। জরাজীর্ণ লক্কর –ঝক্কর গাড়ী। অধিকাংশ ফ্যান অকেজো। নোংরা, অপরিস্কার। কিন্তু ভাড়াও কম নয়।
গাড়ীতে একজন চালক আর একজন সহকারী থাকলেও তাদের দায়িত্বহীন আচরণে যাত্রীরা অতিষ্ঠ। তারা থাকে টাকা কামানোর ধান্দায়।তাদেরকে পাহারা দেয়ার জন্য রাস্তার ২/৩ জায়গায় আছে চেকার। কিন্তু বিধিবাম।চালক, সহকারী ও চেকার এক সূতোয় গাঁথা! নিশ্চয়ই তারা গাড়ী মালিকের বেতনভুক্ত কর্মচারী।
ঢাকা থেকে গাড়ীটি ছাড়ার পর থেকেই শুরু হয় রাস্তায় রাস্তায় যাত্রী উঠানো। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের দেখতে হয় চালক ও সহকারীর চোখ রাঙ্গানী। চালক তখন ইচ্ছাকৃতভাবে হয় ধীর গতিতে কখনো বা বেপরোয়াভাবে গাড়ী চালাতে শুরু করে। এ যেন যাত্রীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা! রাস্তায় ২/৩ জায়গায় চেকার এসে যাত্রী এবং টিকেটের মুড়ি সংখ্যা গুণে দেখে কাগজে সই করে দেয়। আর টিকেট বহির্ভূত যাত্রীদের ভাড়ার কিছু অংশ হাতে গুজে দেয় সহকারী, তাহলে সব ওকে হয়ে যায়।
গাড়ী চলছে। এভাবে দেখা যায় হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী নিয়ে গাড়ী ছাড়লেও রাস্তায় যাত্রীদের অভাব নেই। আর পেট ভরে চেকার, সহকারী আর চালকের-যাদের দায়িত্ব ছিল এ গাড়ীটির দেখাশুনাসহ যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার।এভাবে তারা রক্ষক হয়েও ভক্ষের ভূমিকায় নেমে পড়েছে। আর এভাবে চলতে চলতে একদিন গাড়ী মালিক পথে বসে যায়; আর তারা হয়ে যায় গাড়ীর মালিক।কিন্তু যাত্রীদের ভোগান্তির কোন প্রতিকার হয় না।
------------------০০০----------------