গোলাপ গাছ লালন পালনে নিদিষ্ট বা বাঁধাধরা বা ইউনিভার্সাল কোনো ফর্মুলা নেই। এটার লালন পালনে চার্ট ফলো করলে আপনাকে বিপদে পড়তে হতে পারে। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, গছের বয়স আর এর গ্রোথ স্টেজ, ঋতুর পরিবর্তন, মাটিতে বিদ্যমান নিউট্রিয়েন্টর পরিমান, ইত্যাদি কারণে আপনাকে অবস্থা বুঝে পরিচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। ধীরে ধীরে আপনি গাছের ভাষা বুঝে যাবেন।
🔰 মাটি তৈরি করার নিয়মঃ
একটি ভালো মাটির মিশ্রণের সবচেয়ে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল এটি ঝর ঝরা, নরম এবং চুরচুরে হওয়া উচিত। একটি ভালো মাটির মিশ্রণে কমপক্ষে ৫০% ফাঁকা জায়গা থাকা উচিত যাতে দ্রুত জল এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। মাটির মিশ্রণ প্রকৃতিতে সংকুচিত হওয়া উচিত নয়। এঁটেল ধরণের মাটি এড়িয়ে চলতে হবে। তাছাড়া, একটি ভালো মাটির মিশ্রণে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকা প্রয়োজন যা দীর্ঘ সময়ের জন্য উদ্ভিদের উপকার করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, হাড় এবং শিং কুচি, সরিষার খৈল ইত্যাদি ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময়ের জন্য উদ্ভিদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।
➡️ মাটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আমাদের মাটির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি জানা প্রয়োজন:
১. ভৌত বৈশিষ্ট্য যা মূলত মাটির গঠন, কোমলতা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত।
২. রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যা মাটির pH(মাটির জন্য প্রয়োজনীয় উপযোগী pH ৭ - ৮) , eH, EC(মাটির জলের তড়িৎ প্রবাহ বহন করার ক্ষমতা), পুষ্টির প্রাপ্যতা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত।
৩. জৈবিক বৈশিষ্ট্য যা জীববিজ্ঞানের প্রাণবন্ত উপস্থিতির সাথে সম্পর্কিত যা উদ্ভিদের জন্য অনুপলব্ধ পুষ্টিকে উপলব্ধ আকারে রূপান্তর করতে পারে। Microorganisms, পানি, PGR ইত্যাদি সরবরাহের জন্য উদ্ভিদের সাথে একটি symbiotic সম্পর্ক স্থাপন করে।
আজ আমাদের লক্ষ্য হবে একটি ভাল মাটির মিশ্রণ প্রস্তুত করা যাতে নিশ্চিত করা যায় যে উপরের বৈশিষ্ট্যগুলি উদ্ভিদের জন্য সর্বোত্তমভাবে উপকারী।
মাটিকে আরও ঝর ঝরা করার জন্য আমরা অনেকগুলি উপাদান যুক্ত করতে পারি। এর মধ্যে বেশিরভাগ জৈব উপাদান রয়েছে যেমন ভার্মি-সার, গোবর সার, পাতার সার, ধানের তুষ, কোকো-পিট, বালি, নুড়ি পাথর,ছাই, পার্লাইট, পিউমিস ইত্যাদি।
এখানে আমি দুই ধরণের মাটির মিশ্রণ অনুপাত ভাগ করে নিচ্ছি। উভয়ই আপনাকে ভালো ফলাফল দেবে। আপনি কোনটি পছন্দ করবেন তা আপনার উপর নির্ভর করে।
ক. বেলে-দোআঁশ মাটির জন্য সহজ মাটির মিশ্রণ অনুপাত:
১. মাটি ৫০ শতাংশ।
২. ভার্মি/ভালভাবে পচা গোবর/পাতার সার ৩৫ শতাংশ।
৩. সিলেটের বালি ১০ শতাংশ (গুঁড়া কম)।
৪. হাড়ের গুঁড়ো ৪-৫ শতাংশ।
৫. শিংগুড়ি এবং সরিষার খৈল গুঁড়ো ১ শতাংশ।
খ. বেলে-দোআঁশ মাটির জন্য বিভিন্ন মাটির মিশ্রণ অনুপাত:
১. মাটি ৪০ শতাংশ
২. ভার্মি ১৫ শতাংশ
৩. পাতার কম্পোস্ট ১৫ শতাংশ
৪. সিলেটের বালি ১০ শতাংশ (গুঁড়া কম)
৫. ধানের খোসার ছাই ৭ শতাংশ
৬. ধানের খোসা ৭ শতাংশ
৭. হাড়ের গুঁড়ো ৫ শতাংশ
৮. শিংগুড়ি এবং সরিষার খৈল গুঁড়ো ১ শতাংশ।
➡️ মিশ্রণ প্রক্রিয়া:
প্রয়োগের আগে মাটির মিশ্রণটি সঠিকভাবে পচিয়ে নিতে হবে। উপরে উল্লিখিত সমস্ত উপকরণ মিশ্রিত করার পরে, আপনাকে মিশ্রণে পর্যাপ্ত জল যোগ করতে হবে এবং কমপক্ষে ৩০ দিন ধরে পচতে দিতে হবে। পচনের সময়কাল যত বেশি হবে, পচন তত ভালো হবে। গোলাপ লাগানোর আগে মাটির মিশ্রণটি সূর্যের আলোতে শুকিয়ে নেওয়াও প্রয়োজন।
🔰 গোলাপ গাছ টবে রোপণের নিয়মঃ
নার্সারি থেকে গোলাপ গাছ আনার পর কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে টবে প্রতিস্থাপন করতে হবে। নার্সারি থেকে আমরা সাধারনত দুই ভাবে গাছ ক্রয় করে থাকি, ১) সশরীরে গিয়ে ক্রয় করা ও ২) অনলাইনে অর্ডার এর মাধ্যমে ক্রয় করা।
নার্সারি থেকে গোলাপ গাছ বাসায় আনার পর অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যেমনঃ গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝড়ে পরা, রোগাক্রান্ত হয়ে গাছ মারা যাওয়া, কিংবা ভালো ফুল না দেওয়া। এসব সমস্যা এড়াতে হলে আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। পদক্ষেপ গুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
১। নার্সারি থেকে গোলাপ গাছ বাসায় আনার পর গাছের ফুলের কুড়ি গুলো কেটে/ছাটাই করে দিতে হবে।
২। গাছ আনার সাথে সাথেই পটিং/পটে লাগানো যাবে না , অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন আপানার বাসার একটি ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে এবং এই সময় গাছে সবসময় ময়েশ্চার ঠিক রাখার জন্য পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৩। গাছ রোপণের জন্য অবশ্যই মাটির টব নির্বাচন করা লাগবে, গাছের আকার অনুযায়ী মাটির টবের সাইজ নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ৮” ইঞ্চি টব সবথেকে উপযুক্ত। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে মাটির টব ই কেন ? প্লাস্টিকের টবে লাগালে কি ক্ষতি ? তাদের মনের কনফিউশন দূর করার জন্য নিচে গোলাপের জন্য মাটির পাত্র গুরুত্বপূর্ণ তুলে ধরা হল।
- গ্রীষ্মের সময় যখন অতিরিক্ত গরম পড়ে তখন প্লাস্টিকের বা অন্য টব অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় যা গাছের ফিডার/হোয়াইট রুট নষ্ট করে দিতে পারে কারন এই রুট গুলো পাত্রের ভিতরের গায়ে প্যাচানো থাকে। অন্যদিকে মাটির পাত্র প্রাকৃতিক উপাদান মাটি দিয়ে তৈরি যা তাপ সুপরিবাহী হওয়ায় পাত্রের ভিতরের অংশ ঠান্ডা থাকে।
- গাছের পাতা খাদ্য তৈরির জন্য মানুষ এবং প্রাণীর ত্যাগকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। অপরদিকে গাছের শিকড় মাটিতে উপস্থিত খাদ্যের অনুকে ভেঙে গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে যে প্রকৃয়াকে রেসপিরেশন বা শ্বসন বলে, আর এই শ্বসন প্রকৃয়ায় অক্সিজেনের খুবই দরকার হয়।
শিকড় শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন খুজতে থাকে। মাটির পাত্রে অসংখ্য আণুবীক্ষণিক ছিদ্র থাকে যার মাধ্যমে অক্সিজেন শিকড়ে পৌছাতে পারে। প্লাস্টিকে বাতাস অপরিবাহী হওয়ায় এই সুবিধা থাকে না। - গাছে কখনও ওভার ওয়াটারিং হয়ে গেলে মাটির পাত্রের ওই আণুবীক্ষণিক ছিদ্রের সাহায্যে অতিরিক্ত পানি বাইরে বের হয়ে যায় এবং রুট সিস্টেম ঠিক থাকে।
প্লাস্টিকের পাত্রে সাইড থেকে এরকম কোন সুযোগ না থাকায় কোন কারনে নিচের ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেলে মিডিয়াতে ওয়াটার লগিং হয়ে যায়, যা গাছের রুট সিস্টেমকে পঁচিয়ে দিতে পারে। - যেসব গাছ অনবরত আর্দ্র মিডিয়া পছন্দ করে তাদের জন্য প্লাস্টিকের পাত্র উপযুক্ত কিন্ত গোলাপ এর বিপরীত হওয়ায় প্লাস্টিকের পাত্র গোলাপের জন্য উপযুক্ত নয়।
৪। পটিং এর সময় আপনি যেই মাটির টবে লাগাবেন ঐ টবের ভিতরে যেই ছিদ্র থাকবে সেটা প্লাস্টিকের নেট অথবা যেকোনো মাটির টালির ভাঙা অংশ দিয়ে ছিদ্রটি আটকে দিতে হবে।
৫। এরপর ছোট সাইজের ব্রিক চিপস/ইটের খোয়া দিয়ে একটি লেয়ার (টবের গভিরতার ১০%) করতে হবে। তারপর কিছু পরিমান মাটি দিয়ে একটি লেয়ার (টবের গভিরতার ২০%) করতে হবে।
৬। অতঃপর গোলাপ গাছটির পলি কেটে গাছটিকে টবে বসিয়ে দিতে হবে এবং চারপাশ থেকে মাটি দিয়ে দিতে হবে, লক্ষ্য রাখতে হবে টবের উপরিভাগ থেকে যেন অন্তত ১” ইঞ্চি ফাকা থাকতে হবে।
৭। গাছের পটিং এর পরবর্তী ওয়াটারিংটা ভালো করে করতে হবে, এসময় গাছের চারপাশে ১ চিমটি হিউমিক এসিড দিয়ে দেয়া যেতে পারে।
৮। পটিং করার পর গাছকে সরাসরি রোদে না রেখে হালকা রোদ আসে এমন জায়গায় কিছুদিন রেখে দেওয়া উত্তম।
🔰 চারা গাছের পরিচর্যাঃ
চারা গাছের যত্ন নিয়ে যত কথা। অর্থাৎ চারা গাছের পরিচর্যা/ চারা গাছ কেনার পর কি কি করণীয় তা নিয়েই আজকের এই আলাপ। চারা কেনার সময় সেটা স্বাস্থবান হওয়া আর একটু বড়ো হওয়া ভালো। ব্ল্যাক স্পট রোগে আক্রান্ত গাছ কিনলে অবশ্যই চারা রোপনের দিন থেকে চারদিন পরপর ফাঙ্গিসাইড স্প্রে করে যেতে হবে আর এর আগে আক্রান্ত পাতা রিমুভ করে ফেলতে হবে।
- কিনে আনা গাছটির রুট সিস্টেম যদি ভালো থাকে অর্থাৎ ইন্টাক্ট পলিতে থাকে তাহলে আপনি পটে লাগিয়ে দিয়ে সরাসরি সূর্যালোকে দিয়ে দিতে পারেন। পলি গাছের মাটি যেন ভেঙে না যায় তা খেয়াল রাখবেন।
- আর যদি রুট সিস্টেম ড্যামেজ থাকে, বিশেষত কুরিয়ার এর সময় মাটি কমিয়ে দেয়ার কারণে, পটে লাগানোর পর যদি দেখেন গাছটি নেতিয়ে পড়েছে তাহলে সূর্যালোকে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই সব পাতা কেটে ফেলে দিতে হবে। তবে উপরের দিকে কয়েকটা পাতা রেখে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে যতদিন শিকড় বৃদ্ধি হয়ে গাছের নতুন গ্রোথ শুরু না হয় ততদিন পর্যন্ত ছায়ায় রাখা লাগতে পারে। মোটামুটি দুই সপ্তাহের মধ্যেই গাছ সেট হয়ে যাবে।
- কিনে আনা গাছে রোগাক্রান্ত পাতা থাকলে সেগুলো কেটে ফেলে দিতে হবে। এবং ফুল থাকলে কেটে ফেলে দিতে হবে।
- চারা গাছ কিনে আনার পর সরাসরি বড় পটে না লাগিয়ে গাছের সাইজ অনুযায়ি ছোট পাত্রে লাগানো উত্তম। এক্ষেত্রে গাছের সাইজ অনুযায়ি আপনি ৮ ইঞ্চি টব নির্বাচন করতে পারেন। তবে সম্ভব না হলে বড় পটে লাগিয়ে দিতে পারেন অল্প মাটি ব্যবহার করে।অর্থাৎ টবের উপরিভাগের বেশি অংশ ফাঁকা থাকবে। এরপর দুই তিন মাস খালি অংশ ফ্রেশ সয়েল মিক্স দিয়ে ভরাট করে দিতে পারেন। আর মাটির টব ছাড়া অন্য কোনো কিছুতেই গোলাপ করা যাবেনা।
- গাছ বসানো হয়ে গেলে তিন গ্রাম হিউমিক অ্যাসিড আর দুই গ্রাম রুটিং পাউডার চারদিকে ছিটিয়ে দিবেন। রুটিং পাউডার পানির সাথে গুলিয়ে দিলে আরো ভালো কাজ করবে।
- এরপর যথেষ্ট পরিমান পানি দিতে হবে যেন মিডিয়ার পুরা অংশটা ভিজে যায় এবং টবের নিচ দিয়ে পানি বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে প্রয়োজন বুঝে অল্প অল্প করে পানি দিতে হবে।পানি বেশি প্রয়োগ হয়ে গেলে শিকড় ক্ষতিগ্রস্থ হবে বা বাড়বেনা। সতেজ রাখার জন্য ঘন ঘন গাছ শাওয়ার করে দিতে হবে। এতে করেও গাছের গোড়ায় পানি পরবে যা পানির বাড়তি যোগান হিসেবে কাজ করবে।
- ফাঙ্গিসাইড আর পেস্টিসাইড দিয়ে গাছ ভালোভাবে স্প্রে করে দিতে হবে। এটা প্রতি সপ্তাহে রিপিট করতে হবে।
- টবে গাছ লাগানোর পর নতুন শুট আসতে সাধারণত দশ দিনের মতো লাগে। আনডিসটার্ব রুট সিস্টেম এর গাছ খুব দ্রুত শিকড় ছাড়ে আর ডালপালা ছাড়তে শুরু করবে। গাছের গ্রোথ শুরু হলে খাবার চালু করতে হবে।
- দুই সপ্তাহ পর থেকে NPK 13:40:13 লিটার প্রতি 0.5-1 গ্রাম হিসেবে মিক্স করে গাছ প্রতি 200 ml করে সপ্তাহে একবার প্রয়োগ করলেই হবে। এই NPK বানানোর নিয়ম সহজ। ৩ ভাগ NPK ১২:৬১:০০ (MAP) এর সাথে এক ভাগ পটাসিয়াম সালফেট যা SOP নামে পরিচিত সেটা মিশালেই বানানো হয়ে যাবে। এটা চলতে থাকবে।
- গাছ লাগানোর পর একমাস হয়ে গেলে জেনারেল NPK যা বাজারে ১৯:১৯:১৯ বা ২০: ২০: ২০ নামে পাওয়া যায় সেটা সপ্তাহের মাঝখানে একদিন লিটারে 0.5-1 gram হিসেবে মিক্স করে গাছ প্রতি ২০০ ml করে প্রয়োগ করতে পারেন।
- গাছ লাগানোর পর একমাস হয়ে গেলে মাসে দুইবার হিসেবে খৈল পচা পানি দিতে পারেন 250-500 ml হিসেবে। তবে গরম কালে খৈল দেয়া যাবে না। আর বর্ষাকালে খুব সাবধানে। বেশি বৃষ্টির দিনগুলো পরিহার করতে হবে। খৈল প্রয়োগের দিন গাছকে অবশ্যই ঘন ঘন শাওয়ার করিয়ে দিতে হয়।
- মাটির উপরভাগ শক্ত হতে দেয়া যাবেনা। প্রয়োজন হলে ভার্মি বা অন্য যেকোনো কম্পোস্ট ফার্টিলাইজার আন্দাজমতো এপলাই করে গোড়া খুঁচিয়ে দিতে হবে যাতে টপ সয়েল সবসময় সফ্ট থাকে।
- চারা গাছে ফুল নেয়া একদম ঠিক হবেনা। এতে করে গাছের গ্রোথ দ্রুত হবে। কলি ফুটতে যাচ্ছে এমন সময় কলি কেটে দিতে হবে। কোনো পাতা কাটার দরকার নেই। মনে রাখবেন এক একটা পাতা এক একটা সুগার তৈরির ফ্যাক্টরি। যত পাতা ততো বেশি খাবার উৎপাদন আর ততো বেশি গাছের গ্রোথ। পাতায় বেশি বেশি পানি স্প্রে বা শাওয়ার করলে ফ্যাক্টরি প্রোডাকশন বেশি বেশি হবে।
- আপনি চাইলে DAP ফার্টিলাইজার ৩ গ্রাম হিসেবে মাসে একবার এপলাই করতে পারে। সেক্ষেত্রে আর NPK ১৩:৪০:১৩ এপলাই করার দরকার হবেনা।
- চারা গাছে আপনি seaweed extract এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট একসাথে মিক্স করে মাসে দুই থেকে তিনবার পাতার উপর নিচ ভালো করে খুব সকালে বা বিকেলে স্প্রে করতে পারেন। তবে গরম কালে স্প্রে করা যাবেনা। আসলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রীর উপর উঠে গেলে পাতার স্প্রে গাছের ক্ষতি করে। বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে।
- উপরের বিষয়গুলো ফলো করলেই যথেষ্ট ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
- তবে এতকিছু পড়ার পর অনেকের মাথায় প্রশ্ন আসবে অন্য অনেক ফার্টিলাইজার যেমন calcium sulphate, calcium nitrate, magnesium sulphate (epsom salt), NPK 13:00:45 ( potassium nitrate) নিয়ে কেন এখনো কিছু বলছিনা। আসলে গোলাপ গাছ করার করার কোনো সুর্নিদিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। আপনার সয়েল মিক্স যদি নিউট্রিয়েন্ট রিচ করে বানানো হয় তাহলে এতক্ষন যা বললাম তা ফলো না করলেও গাছ আপন মহিমায় বড়ো হতে থাকবে। শুধু গ্রোথ স্পিড একটু কম হবে এই যা। গাছে কখনোই এক্সসেস নিউট্রিয়েন্টস এপলাই জনিত সিনড্রোম দেখা দিবেনা। তাই এই বাড়তি নিউট্রিয়েন্ট গুলো তাদেরই ব্যাবহার করা উচিত যারা নিউট্রিয়েন্ট এপ্লিকেশন আর প্লান্ট রেসপন্স খুব ভালো ধরতে পারে আর সেভাবে নিজেকে এডজাস্ট করে নিতে পারে। তবে সবার মনে রাখা উচিত মাটির গাছের ক্ষেত্রে ডেইলি ডেইলি নিউট্রিয়েন্ট এপলাই না করে কমপক্ষে একদিন গ্যাপ দিয়ে এপলাই করা উচিত। আর সেটা হতে হবে লো ডোজে।
- Calcium Sulphate দুইভাগ আর magnesium sulphate একভাগ একত্রে মিক্স করে আপনি Cal-Mag fertiliser বানিয়ে নিয়ে গাছপ্রতি প্রতিমাসে ৩-৫ গ্রাম হিসেবে টবের চারদিকে গুঁজে দিতে পারেন।
- Calcium nitrate এবং 13:00:45 আলাদা আলাদা ভিন্ন দিনে বা একই দিনে সমপরিমানে মিক্স করে প্রতি লিটার পানিতে 0.5-1 গ্রাম হিসেবে মিক্স করে গাছ প্রতি ২৫০ ml করে এপলাই করে যেতে পারেন সপ্তাহে ম্যাক্সিমাম একদিন হিসেবে।
- উপরের বাড়তি প্রসেস গুলো ফলো করার সময় আপনাকে সব সময় গাছের গ্রোথ মোমেন্টাম খেয়াল রাখতে হবে। আজকে এতো কিছু বললাম কারণ অনেকেই ভাবছেন আমরা অনেক কিছু চেপে যাচ্ছি বা বলছিনা এই ধারণা ভুল প্রমান করতে। এই কেমিকাল ড্রিভেন প্রসেস এর অনেক রিস্ক আছে। মাটি টক্সিক হয়ে এতে হিতে বিপরীত হওয়ার অনেক সম্ভবনা থাকে। তাই এতো কিছু আমি নিজেও হুবুহু ফলো করিনা। যখন যা খেয়াল হয় এপলাই করি। গোলাপ করাটাকে আমি কখনোই কমপ্লেক্স হিসেবে করতে চাইনা বা অন্যকেও এইবেপারে এনকারেজ করি না। চেষ্টা করি কিভাবে বাইরে থেকে অল্প সার প্রয়োগ করে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।
- সাধারণত চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে ৮ ইঞ্চি টব থেকে বড়ো টবে শিফট করতে হয়। তবে এই কাজটা বর্ষা কালে বা অক্টোবরের পরে করলে ভালো।
🔰 কীটনাশক, মাকরনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের নিয়মঃ
➡️ গোলাপ গাছের কীটপতঙ্গ ও ছত্রাকজনিত রোগ শনাক্তকরণঃ
এখানে গোলাপ গাছের সবচেয়ে সাধারণ কিছু সমস্যা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো। এগুলো চিনতে শিখুন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিন!
কীটপতঙ্গ:
- এফিড (Aphids): এই ছোট পোকাগুলো গাছের রস শুষে নেয়, ফলে পাতা বিকৃত হয়ে যায়। দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন!
- সাদা মাছি (Whitefly): পাতার হলদে হয়ে যাওয়া এবং মধুরস নির্গত করার কারণে ছত্রাক জন্মায়।
- লাল মাকড় (Red Spider Mite): ছোট মাইট, যা পাতায় দাগ ফেলে এবং গাছ দুর্বল করে। গরম ও শুষ্ক পরিবেশে বেশি হয়।
- মিলিবাগ (Mealybug): এরা গাছের রস শুষে নেয় এবং মোমের মতো পদার্থ বের করে, যা পাতাকে দুর্বল করে ফেলে।
- থ্রিপস (Thrips):গাছের পাতার রঙ ফ্যাকাশে, রূপালি দাগ দেখা দেয় ও কুঁকড়ে যায়।ফুলের পাপড়িতে কালো দাগ হয়। ঠিকমতো ফুল ফোটে না, শুকিয়ে ঝরে।পোকা: ছোট, সরু, হলুদ বা কালো, পাতার নিচে থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গাছ দুর্বল হয়ে যাবে!
ছত্রাকজনিত রোগ:
- বট্রাইটিস (Botrytis): ধূসর রঙের এক ধরনের ছত্রাক, যা ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে পাতা ও ফলের ওপর আক্রমণ করে।
- ছত্রাক (Fungi): বেশি আর্দ্রতায় গাছে কালো দাগ সৃষ্টি করে।
- ডাউনি মিলডিউ / ওডিয়াম (Mildew/Oidium): ছত্রাকজনিত রোগ, যা পাতার ওপরে সাদা গুড়োর মতো আস্তরণ তৈরি করে এবং আলোর শোষণ বাধাগ্রস্ত করে।
- রাস্ট (Rust): এক ধরনের ছত্রাক, যা পাতায় লালচে-কমলা রঙের দাগ ফেলে এবং গাছ দুর্বল করে। দ্রুত ব্যবস্থা নিন!
➡️ গোলাপ গাছে কীটনাশক ও মাকরনাশক প্রয়োগের নিয়মঃ
গোলাপ করবেন আর পোকামাকড়ের ঝামেলা পোহাবেন না সেটা হতেই পারেনা। তবে জানতে হবে দমনের সঠিক পদ্ধতি এবং সঠিক কীটনাশক মাকড়নাশক ঔষধ এর মান নিয়ে ডোজ নিয়ে তবেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। একই কীটনাশক বা মাকড়নাশক রেগুলার ব্যবহার করলে ফলাফল পাবেন না তারজন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে আর সেটার একটি তালিকা আমি শেয়ার করবো :
ইমিটাফ ০.৭ মিলি + ভারটিমেক ১.২৫ মিলি একসাথে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
প্রোকলেইম ১ গ্রাম + ভারটিমেক ১.২৫ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
একতারা ০.২৫ গ্রাম + ভারটিমেক ১.২৫ মিলি ১ লিটার লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
লিকার ২ মিলি + ইমিটাফ ০.৭ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
রিপকড ১ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর
সানমেকটিন ১.২৫ মিলি + টিডো ১.২৫ মিলি ১ লিটার লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
১.২৫ মিলি ভারটিমেক + ২ গ্রাম ১৩:০০:৪৫ এনপিকে + ১ মিলি টিডো ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। সাথে অবশ্যই বরফের টুকরা মেশাবেন বা চিলড ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। ৪ দিন পর পর।
গোলাপ গাছে লেদা পোকা দেখা দিলে প্রোক্লেম ৫ এস জি (এমামেকটিন বেনজোয়েট) ১ গ্রাম/লিটার পানিতে গুলীয়ে গাছে প্রয়োগ করতে হবে।
৮ টি অপশন দিয়েছি এগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিবেন তাতে সমস্যা হবেনা। আশাকরি এগুলো কম বেশি সব জায়গায় পাবেন। আর এই ঔষধ গুলো দেওয়ার সময় ২০ লিটারের জন্য ৫ গ্রাম লোকাল শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এবার কম পানি হলে কয়েক ফোঁটা অবশ্যই মেশাবেন। স্টিকার মেশানোর চেষ্টা করবেন।
যে জিনিস গুলো করা যাবেনা :
☛ রোদে কীটনাশক দেওয়া যাবেনা।
☛ গাছের মাটি শুকনো থাকলে কীটনাশক দেওয়া যাবেনা।
☛ ভেজা পাতায় স্প্রে করবেন না।
☛ অপরিস্কার গাছ হলে ওয়াশ করে পাতা শুকিয়ে নিবেন।
☛ শুধু পাতার উপর ভাগে স্প্রে করবেন না।
☛ বেশি ওভারডোজ ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
যে জিনিস অবশ্যই মেনে চলতে হবে :
➲ বরফ পানি অবশ্যই অবশ্যই
➲ পাতার উপর এবং নিচে দুইপাশে ভীষণ ভালো করে স্প্রে করবেন।
➲ বিকালে কীটনাশক দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এটাতো হলো রাসায়নিক দমন, তবে অবশ্যই জৈবিকদমন ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেটা হলো দিনে ২ -৩ বার স্প্রীডে পানি দিয়েন পাতার এপিট ওপিট ওয়াশ করতে হবে।
➡️ গোলাপ গাছে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের নিয়মঃ
গোলাপ গাছে অনেক ছত্রাকজনীত রোগ হয়। তন্মধ্যে ডাইব্যাক, কালো দাগ পড়া রোগ ও পাউডারি মিলডিউ প্রধান।
⚠️ ডাইব্যাক: কোন ছাঁটাই করা ডালের কাটা অংশের আগায় দেখা যায়। কাটা প্রান্ত থেকে নীচে সামান্য কিছুটা অংশ শুকিয়ে কাল কাল হয়ে যায়। শুকানোর দাগ ডালটির একপাশে অথবা ডালটির চারপাশে ঘিরে বৃত্তাকারে দেখা যেতে পারে। অনুকুল পরিবেশে আক্রান্ত ডালটি পুরোপুরি শুকিয়ে কাল হয়ে যায় এবং পাতা ঝরে যায়। ডালের আগা থেকে শুকাতে শুকাতে নীচের দিকে নামতে থাকে। শেষে রোগের আক্রমণে শিকড়গুলোও শুকিয়ে যায় এবং গাছটি মারা যায়।
✨ ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত ডাল অন্তত: পক্ষে আক্রান্ত অংশ থেকে প্রায় তিন ইঞ্চি নীচে ধারালো ছুরি বা ছুরিজাতীয় জিনিস দিয়ে কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ডাল কাটা যন্ত্রটি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে ভালো ভাবে শোধন করে নিতে হবে। গোলাপ ডাল ছাঁটাইয়ের পর কপার অক্সিক্লোরাইড পেস্ট আকারে মাথায় লাগাতে হবে। ছত্রাকনাশকের পেস্ট বিশেষ করে কপার অক্সিক্লোরাইড পেস্ট আকারে লাগিয়ে দিতে হবে। গোলাপ গাছে নিয়মিতভাবে সুষমমাত্রায় সার এবং পানি দিতে হবে। কপার অক্সিক্লোরাইড ৪ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে। গাছে ফুল থাকলে কুপ্রাভিট/কপার অক্সিক্লোরাইড স্প্রে করা যাবে না। এক্ষেত্রে ম্যানকোজেব/এন্টিব্লাইট ২.৫ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
⚠️ গোলাপের পাতার কাল দাগ রোগঃ এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ এবং রোগ সংক্রমণকারী ছত্রাক ইথিলিন গ্যাস ত্যাগ করে এবং ঐ গ্যাসের প্রভাবে গাছের পাতা মরে যায় । গোলাপ গাছে এই রোগের আক্রমণ ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। রোগের ফলে পাতার দু’পিঠে গাঢ় কাল রঙের দাড় পড়ে। কাপড়ের পাড় কোঁচকালে যেমন দেখায়, দাগের কিনারা দেখতে ঠিক সেই রকম। কোন কোন জাতের গোলাপ গাছে, রোগ সংক্রমণ শুরু হওয়ার ঠিক পর থেকে ব্যাপকভাবে পাতা ঝরতে দেখা যায়। আবার কোন কোন জাতের গোলাপ গাছ তীব্রভাবে রোগাক্রান্ত হলেও পাতা ঝরে যায় না। তীব্রভাবে আক্রান্ত পাতাগুলো (অসংখ্য দাগযুক্ত) গাছে লেগে থাকে।
✨ ব্যবস্থাপনাঃ কাটিং ও চারা শোধন করে টবে বা বাগানে রোপণ করতে হবে। সুস্থ সবল গাছ থেকে কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। রোগাক্রান্ত ঝরা পাতা কুড়িয়ে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত যত্ন এবং প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম লিবরেল জিংক ও ২ গ্রাম লিবরেল বোরন একত্রে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যায়। এ রোগে জৈব সার প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আক্রান্ত কান্ড, ডগা ছেঁটে ফেলা এবং ছাঁটাই অংশে কপার অক্সিক্লোরাইডের পেস্ট লাগাতে হবে। কপার অক্সিক্লোরাইড ৪ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১৪ দিন পর ৩ থেকে ৪ বার ভালোভাবে স্প্রে করে সম্পূর্ণ গাছ ভিজিয়ে দিতে হবে। অথবা ম্যানকোজেব ২.৫ গ্রাম/১লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে।
⚠️ গোলাপের পাউডারী মিলডিউ রোগঃ ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। মাটির উপরিভাগে অবস্থিত গাছের প্রত্যেক অংশে এই ছত্রাকের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটে। গাছের নরম পাতাগুলো মুচড়ে যায়। আক্রান্ত পাতার কিছু অংশ উপরের দিকে উঠে যায়। আক্রান্ত অংশে পাউডারের মত গুঁড়ি গুঁড়ি বস্ত্ত দেখা যায়। আক্রমণ তীব্র হলে আক্রান্ত অংশ শুকিয়ে যায় এবং এসব স্থানে কাল দাগ পড়ে। গাছের কচি ডালের ডগাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বস্ত্ত দেখা যায়। আক্রান্ত ফুলের কুঁড়িগুলি ভালোভাবে ফোটে না।
✨ ব্যবস্থাপনাঃ গাছের রোগাক্রান্ত অংশগুলি কেটে সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম থিয়োভিট মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার প্রয়োগ করতে হবে। অথবা এমিস্টার টপ ১ এম.এল/লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে।
➡️ পেস্টিসাইড এবং ফাঞ্জিসাইড একসাথে ব্যবহার করা না করা নিয়ে আমার উপলব্ধি
বিষয়টা বুঝতে গেলে সবার আগে জানতে হবে পেস্টিসাইড এবং ফাঞ্জিসাইড কিভাবে কাজ করে।
ফাঙ্গাস গাছের কোষের অভ্যন্তরে আক্রমন করে, সুতরাং প্রতিকার বা প্রতিরোধ টা আমাদেরকে কোষের অভ্যন্তরেই করতে হবে। এমন সময়ে ফাঞ্জিসাইড গাছে স্প্রে করা প্রয়োজন যেন এটা গাছের পাতা এবং শাখা প্রশাখার মাধ্যমে কোষে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হালকা রোদ থাকে এরকম সময়ে যেমন সকাল ৮-৯ টার মধ্যে অথবা বিকাল ৩/৪ টার দিকে ফাঞ্জিসাইড গাছে প্রয়োগ করা উচিত।
মনে রাখতে হবে, পেস্টিসাইড প্রয়োগ করার সময়ে অথবা গাছে প্রয়োগ করার পরে শুকিয়ে যাওয়ার আগে, প্রয়োগ করা গাছে যদি পেস্ট না বসে এবং মারা না যায় তাহলে এটা ব্যবহারে কোন লাভ হবে না। পেস্টিসাইড ব্যবহারের ক্ষেত্রে পেস্ট গাছে বসেছে এরকম সময় দেখে প্রয়োগ করা ভাল। আপনি যতই পেস্ট মেরে ফেলেন না কেন ১ সপ্তাহর ভিতরে এরা নতুন করে আবার জন্মাবে এবং আপনাকে আবার মারতে হবে। অল্প কিছু পোকামাকড় আছে যেগুলো সারাদিনই গাছে বসে থাকতে পারে তাদের বিষয়টা ভিন্ন এবং এগুলোর সংখ্যাটাও কম। দেখা যায় পোকামাকড় সন্ধ্যা হওয়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে গাছে বসতে শুরু করে, সুতরাং পেস্টিসাইড মাগরিবের একটু আগে অথবা মাগরিবের পরে প্রয়োগ করা সবথেকে ভালো।
যারা শহরে থাকেন এবং ৪/৫ তলার উপরে বাগান করেন তাদের জন্য পেস্টিসাইড এর বিষয়টা অনেকটাই ভিন্ন, কারন শহরে এবং এতটা উঁচুতে পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম থাকে।
মন্তব্যঃ সময় ও সুযোগ থাকলে পেস্টিসাইড এবং ফাঞ্জিসাইড আলাদা আলাদা প্রয়োগ করা উত্তম।
🔰 অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে গোলাপকে কিভাবে বাঁচাবেনঃ
বাংলাদেশর আবহাওয়া বিগত বছর গুলোর তুলনায় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সেটার সাথে তাল মিলিয়ে নিজের শখের গোলাপ গাছটিকে বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ যে সমস্যা হলো সময়মতো পানি দেওয়া মিডিয়া শুকিয়ে যায় আর তখন মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়। তীব্র গরম পড়া শুরু না হলেও কমও না। আগে ভাগে সমস্যার সমাধান থাকলে ভাবতে হবেনা কি করবো এখন তার জন্য আমার এই পোস্ট।
- যদি সম্ভব হয় গ্রীন নেট লাগাতে পারেন অনেক সমস্যার সমাধান নিমিষেই হয়ে যাবে। ৪০% , ৫০% , ৭৫% , ৯৫% বিভিন্ন মাপের হয় সাধারণত এটা গ্রীন নেটের জালের ঘনত্ব বোঝায়। আপনার ছাঁদের উচ্চতা বুঝতে হবে সবার একমাপের হলে হবেনা। যতো উঁচু ততো ঘনত্বের নেট ব্যবহার করবেন। তবে এভারেজ ৪-৫-৭ তলার জন্য ৭৫% পারফেক্ট।
- মালচিং এর বিষয়ে বলবো যা পারেন যার যেমন সামর্থ্য কমদামের অনেক কাপড় পাওয়া যায় সেটাও একটু মোটা করে দিয়ে রাখতে পারেন।পানি দিলে ভিজে গেলে অনেক সময় ময়েশ্চার ঠিক রাখবে। মোটা সাইজের কোকোপিট নেটের ব্যাগে ভরে দিয়ে রাখতে পারেন তাতেও কাজ হবে। গ্রামের বাড়িতে যারা আছেন নারকেলের খোসা ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন তাতেও কাজ হবে। গ্রীন নেট দিতে পারেন। কোকোপিট দিয়ে করতে পারবেন বৃষ্টির মৌসুম আসলে সরিয়ে দিবেন।
- কীটনাশক ছএাকনাশক মাকড়নাশক এগুলো ব্যবহার এর সময় অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই দুপুর ৩ টার মধ্যে একবার পুরো ছাঁদের গোলাপগাছ সুন্দর করে শাওয়ারিং করিয়ে দিতে হবে এবং টবের মাটিতে ময়েশ্চার আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। গরমের সময় অনেক ধুলা বালি পাতার উপর পড়ে থাকে সেগুলো পাতার যে স্টোমাটা মানে আমাদের লোমকূপের মতো যে লোমকূপ আছে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। আর টবের মাটিতে ময়েশ্চার না থাকলে কীটনাশক দিলে ১০০% পাতা পুড়বে। এই যে গোসলটা করালেন তাতে তাপমাত্রা অনেক কমে আসবে। তখন কীটনাশক বেশি কাজে দিবে। বৃষ্টি না হওয়া অব্দি কীটনাশকের পানিতে মাকড়নাশকের পানিতে অবশ্যই বরফ পানি ব্যবহার করবেন। তানাহলে ঔষধ এর ব্যবহার বৃথা যাবে।
- গরমে পাতা ধরে রাখতে হবে। আর এই পাতা ধরে রাখতে কতোকিছু করার চেষ্টা করি। পানি Highspreed এ ব্যবহার করবেন যেন কোনো পোকামাকড় পাতার নিচে না থাকতে পারে। এরাই সব শেষ করে দেয়। মনে রাখবেন যে গাছে যতোপাতা সেই গাছ ততো খাবার খাবে। সেই গাছ ততো তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে।
- টবের মাটিতে কখন পানি দিবো সকালে না বিকালে না দুপুরে? দেখেন গাছের মাটিতে সকালে অবশ্যই পানি দিবেন তবে দেখতে হবে কখন মাটি শুকিয়ে আসছে। তখনই দিতে হবে এখানে সকালে বিকালে দুপুরের কোনো বিষয় নেই। রাতে পানি দেওয়া যাবেনা এটা মাথায় রাখবেন। আরেকটি বিষয় বলি আগেই গোড়ায় পানি না দিয়ে ডিপ একটা শাওয়ারিং করিয়ে দিবেন দেখবেন শাওয়ারিং এর কাজ হয়ে যাবে সাথে পানি দেওয়ার কাজ।
- আর একটি ফুল কলি কিছু নেওয়া যাবেনা। তাহলে গাছের বৃদ্ধি হবেনা। কলিতে একটু কালার আসবে আসবে ভাব তখন কলিটা হাত দিয়ে ধরে ভেঙে দিবেন। কোনো সিকেচার দিয়ে কাটবেন না। ৫ পাতা ৭ পাতা এমন কোনো বিষয় নেই।
- দুপুর ২ টার পরের রোদ যেন কম লাগে সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করবেন।
- সরিষার খৈল + ডিএপি এগুলো আর ব্যবহার করবেন না। এগুলোতে যেমন হাই নাইট্রোজেন রয়েছে তেমনি মিডিয়াতে extreme heat produce করে সেটার কারণে গাছের পাতা কুকড়ে যায় আবার মাকড়ের তীব্রতা বাড়ে। অনেক সময় এটার জন্য লাগাদার কীটনাশক ব্যবহার করি।
- তাপমাত্রা ৩৫-৪০ এর মধ্যে হলে ছএাকনাশক অফ করে দিবেন। কারণ এমন তীব্র তাপমাত্রায় ছএাক জন্ম নিতে পারবেনা।
- খাবারের বা সার আপনি পানিতে মিশিয়ে দিবেন অল্প করে ২ বারে দিবেন গাছে যেটা ২ গ্রাম একসাথে দিতেন সেটা ১ গ্রাম করে ২ বারে দিবেন। তাতে গাছ অনায়াসে খাবার গ্রহণ করবে। যদি দেখেন তাপমাত্রা ৪০ তাহলে খাবার অফ।
- মাটির টব ব্যবহার করবেন সবসময়।প্লাস্টিকের টব পরিহার করুন। মাটির টবের গুণাবলি এখন বুঝতে পারবেন।
- অযথা ডালপালা কাটাকাটি বন্ধ করুন। তাতে আপনার গাছের জন্য ভালো। শেপ পরেও ঠিক করা যায়। এখন দরকার নেই। ১ টি পাতার অনেক দাম টবের গাছের জন্য।
- গাছকে ঠান্ডা রাখতে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন ২০ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম তাতে আপনার গাছ ঠান্ডা থাকবে। বিদেশে একটি উপাদান ব্যবহার করা হয় গাছকে ঠান্ডা রাখতে সেটা এই শ্যাম্পুতে রয়েছে। এতে যেমন গাছ ঠান্ডা রাখবে , পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে , পোকামাকড় ছএাক কমে আসবে। যেটা একটি গাছের জন্য ভালো।
- গাছ একটু কাছাকাছি রাখবেন একটি গাছ অন্যটির সাথে। তাতে তারা পারষ্পরিক বাষ্পমোচন করে ঠান্ডা রাখতে সহোযোগিতা করবে। বেশি দূরে রাখলে বেশি dry হয়ে যায়।
- গাছকে দিতে অন্ততো দুইবার গোসল করাবেন সেটা যখন করবেন গোসলও হয়ে যাবে পানি দেওয়াও হয়ে যাবে। কারণ সবার জন্য সম্ভব না তারপরও চেষ্টা করবেন। পাতা যতো শুকনো রাখবেন ততো মাকড় হবে গাছে। তাপমাত্রা কমাতে হবে আর তারজন্য শাওয়ারিং জরুরী।
- টবের নিচে কাঠের টুকরো বা ককসিট এর টুকরো দিতে পারেন তাতে ছাঁদের যে হিট ডিরেক্ট টবে লাগবেনা পানি কম শুকাবে। শেকড় কম পুড়বে।
- সকল ধরনের পিজিআর অফ রাখবেন। বৃষ্টি হবে আবার দিতে পারবেন।
- ছোট চারা গাছ সেটার থেকে তুলনামূলক বড় গাছের ছায়াতে রাখবেন। তাতে ছোট গাছের পাতগুলো বাঁচবে। আর একটি টিপস বলি ছোট চারা গাছ যখন বড় গাছপর ছায়াতে রাখবেন তখন বৃষ্টি দ্বিগুণ হবে।
- বারবার পিএইচ মেপে ঠিক করতে যাবেন না। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে পিএইচ বাড়ে তাপমাত্রা কমলে পিএইচ কমে। তারজন্য সকালে পানি দিয়ে তারপর পিএইচ চেক করবেন। অনেকে পিএইচ ঠিক করতে করতে হতাশ হয়ে যান।
- খুব বেশি ছোট পটে বড় গাছ রাখলে এখনো সময় আছে রিপটিং করুন। কারণ তাতে বার বার পানি দিতে দিতে পাগল হয়ে যাবেন। গাছের টবের ময়েশ্চার অন্তত ৩ ঘন্টা না থাকলে অবশ্যই টব পরিবর্তন করে বড় পট দিতে হবে।
- অতিরিক্ত জৈব সার দিয়ে গাছ রিপটিং করবেন না। অতিরিক্ত গোবর সার ব্যবহার করবেন না।
© ✍️ Rose Culture in Bangladesh
Information Sources: Collected from the Internet.
Image Sources: Generated by AI, DALLE-3 Model