ফরমালিন কি ?
৪০% মিথান্যাল (ফরমালডিহাইড) এর জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। পরিমাণ হিসেবে ৪০% মিথান্যাল, ৮% মিথানল(মিথাইল অ্যালকোহল) ও ৫২% পানি থাকে। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জীবাণুনাশক। মূলত এর ব্যবহার ক্ষেত্র মৃতজীবদেহ সংরক্ষণে, সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব,ঘরের মেঝে, দেয়াল, বাথরুম প্রভৃতি জীবাণুমুক্ত রাখতে, মেলামাইন রেজিন,ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক তৈরীতে,রসায়ন গবেষণাগারে বিজারক হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই বিষাক্ত উপাদান খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কারন পরীক্ষায় দেখা যায় এটি মোল্ডের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর একটি উপাদান। এ কারনে বিষাক্ত এ উপাদানটি খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
source
মাছ, মাংস, দুধ, ফল, সবজি, শুকনো খাদ্য সবক্ষেত্রেই এর ব্যবহার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরমালিনের মূল উপাদান মিথান্যাল জীবদেহের প্রোটিনের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে বন্ধন সৃষ্টি করে বিধায় প্রোটিন নষ্ট হতে পারে না। এ কারনে দীর্ঘ দিন মাছ-মাংস সতেজ ও তাজাভাব থাকে, পচে যায় না।
ফরমালিনের সুবিধা :
১. ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুক্রিয়াজনিত পচন নিরোধক বা এন্টিসেপটিক বলে এর ব্যবহারের ক্ষেত্র ব্যাপক।
২. মৃত জীবজন্তুর দেহ বা এদের বিভিন্ন অংশ সংরক্ষণে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। ফরমালিন এগুলোর পচন রোধ করে।
৩. জীববিজ্ঞান গবেষণাগারে নমুনা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
৪. সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা,আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিন ব্যবহৃত হয়।
ফরমালিনের অসুবিধা :
১. এটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত।
২. শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও এন্টিসেপটিক বলে এর অপব্যবহার দেখা যায়। মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাকসবজি সংরক্ষণে একে ব্যবহার করা হয়। ফলে খাদ্যের সাথে এটি আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন অরগানকে ধ্বংস করে এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।
৩. ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়। খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুন ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়।
পোস্টটি ভাল লাগলে সবাই আপভোট,কমেন্ট,রিস্টিম এবং ফলো করুন।