মিলিয়ে নিন এই সামাজিক মুল্যবোধ গুলো আপনার ভিতর আছে নাকি?
মুল্যবোধ একটি মানবিক গুণ।মানুষ তার মূল্যবোধের কারনেই অনন্য হয়ে ওঠে।আমরা সামাজিক জীব। আমরা সবাই কোন না কোন সমাজে বসবাস করি।আর সমাজে বাস করতে হলে আমাদের একে অপরের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা করা এবং একে অপরকে এই অধিকার ভোগ করতে সাহায্য করাটা আমাদের দায়িক্ত। সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষ কে আলোকিত মানুষের পর্যায়ে নিয়ে যায়।তাই আসুন সামাজিক মুল্যবোধ অর্জন করি নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি
সামাজিক মুল্যবোধঃ
সামাজিক মুল্যবোধ বলতে সমাজে বসবাস রত মানুষের অধিকার রক্ষা করা, সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস , আদর্শ , চিন্তা ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধাশিল হওয়াকেই সামাজিক মুল্যবোধ বলে।
১।বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের স্নেহ করাঃ
বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের স্নেহ করা হল অন্যতম একটি নৈতিক গুণ। তুমি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছ এমন সময় একজন মুরুব্বির সাথে তোমার দেখা হল তুমি তাকে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করতে পার এতে লোকটি খুশি হবে এবং তোমার সম্পর্কে তার একটা পজিটিভ ধারনা হবে। এমনি করে ছোটদেরকে যদি তুমি তাদের পড়ালেখা কেমন চলছে কেমন আছ ইত্যাদি কুশল জানতে চাও তাহলে সে তোমাকে মন থেকে সম্মান করবে।
২ কথোপোকথনের সময় মোবাইল ফোনকে দূরে রাখঃ
কারো সাথে কথা বলার সময় তুমি যদি বারেবারে তোমার মোবাইল ফোন চেক করো বা বার বার তোমার মোবাইল ফোন বাজতে থাকে তাহেলে, তা অপর পক্ষকে্র কাছে বিরক্তি বা অপমান বোধের কারন হতে পারে। তুমি হয়তো তার কথা মনোযোগ দিয়েই শুনছিলে, কিন্তু যার সাথে কথা বলছিলে এই বিষয়টি সে পছন্দ নাও করতে পারেন। তাই কথোপোকথনের সময় যতটা সম্ভভ মোবাইল ফোন কে এড়িয়ে চলাই ভাল।
৩। কোন এক মুহূর্তের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকঃ
কোন এক মুহূর্তের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মানুষ কে বিচার বিশ্লেষণ করা ঠিক না কেননা ওই মুহূর্তে তার মনের অবস্থা খুব ভাল বা খুব খারাপ থাকতে পারে এবং সেটা তার ব্যাবহারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।একজন লোক তোমার সাথে রেগে কথা বলল বলেই যদি তুমি ধরে নাও যে , লোকটি খারাপ তাহলে সেটা ভুল হবে দেখা যাচ্ছে অই সময় ওই লোকের মনের অবস্থা ভাল ছিল না।তাই চট করেই কোন মানুষ সম্পর্কে ভালভাবে না জেনে মন্তব্য করা উচিৎ না।
৪।বলার থেকে শুন বেশিঃ
দেখা যাচ্ছে তুমি একটা আলচোনা সভাই আছ, মনযোগ দিয়ে শুন আগে বক্তা কি বলছে ঠিকঠাক ভাবে না শুনেই আগেই যদি মন্তব্য করে বস তাহলে সেটা হবে তোমার বোকামি।প্রথমে বিষয়টি ভালভাবে শুন তারপর বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করো। তারপর সে বিষয়ে তোমার মন্তব্য প্রদান কর।তাহলেই বুঝা যাবে তুমি মানুষকে গুরুত্ত দিতে জান।
৫।মানুষের সম্পর্কে অভিযোগ কম করঃ
মানুষের সম্পর্কে অভিযোগ করলে সেটা নিজের নেগিটিভিটি কে প্রকাশ করে।একজন মানুষের কথাবাত্রা , কাজ তোমার পছন্দ নাই হতে পারে, তাই বলেই যে তার উপর অভিযোগ করতে হবে এটা ঠিক না।নিজেকে যদি একজন Negative person হিসেবে পরিচিত না করতে চাও তবে তবে তোমার কথায় কখনোই অভিযোগ প্রকাশ কোরো না।
৬।ভালকাজের জন্য মুল্যায়ন করঃ
ভালকাজের জন্য প্রশংসা করা একটা ভাল গুন। কারো কোন কাজ যদি তোমার ভালো লাগে তার জন্য তাকে মুল্যায়ন কর। এমনভাবে তার প্রশংসা কর যাতে তোমার কথার ভিতর একটা আন্তরিক ভাব থাকে।
৭। কথোপকথন ঠিকঠাকভাবে শেষ করঃ
আমরা অনেক সময় ফোনে কথা বলার সময় কথা ঠিকঠাক ভাবে শেষ না করেই লাইন টা কেটে দেই । আবার অনেক সময় এমনটাও হয় যে, আপনাকে একজন ব্যক্তি ফোন করেছে আপনি কথা কথা টা শেষ করে লাঈন টা আপনি কাটছেন কিন্তু এটা ঠিক না কারন কল টা যেহেতু আপনি করেন নাই তাহলে লাইন টা কাটার তাড়া আপনার কেন? কথোপোকথন ঠিকভাবে শেষ না করাটা এক ধরনের অভদ্রতা । তাই কথোপকথন ঠিক ভাবে শেষ করুন।