চলছে জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলংকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। তিনটি টি টোয়েন্টি এবং তিনটি ওডিআই ম্যাচের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকদিন আগে শ্রীলঙ্কায় সফরে এসেছে জিম্বাবুয়ে দল। ইতিমধ্যেই দল দুটির মধ্যকার প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে স্বাগতিক শ্রীলংকা। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর এই ম্যাচে তারা জিম্বাবুয়ে কে হারিয়েছে দুই উইকেটের ব্যবধানে। এই জয়ে সিরিযে এগিয়ে গেলো লংকান বাহিনী!
জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলংকার মধ্যকার প্রথম ওডিআই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচটির শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বাগতিকরা। ব্যাটিংয়ের শুরুটা রাঙাতে দুই ওপেনার ব্যর্থ হলেও আসালাংকার কল্যানে ২৭৩ রান করতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে জিম্বাবুয়ের সামনে ২৭৪ রানের চ্যালঞ্জিং টার্গেট নির্ধারিত হয়। ২৭৪ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে পাচ রানেই প্রথম দুই উইকেট হারায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে দল। কিন্তু এই ম্যাচে শ্রীলংকার জয়ের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচে বিঘ্ন ঘটলে কোন ফলাফল ছাড়াই শেষ হয় খেলা!
দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় একই স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচে টসে জয়লাভ করে জিম্বাবুয়ে। টসে জিতে দলটির ক্যাপ্টেন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত শুরুতে ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দেওয়াটাই ছিল জিম্বাবুয়ের মূল লক্ষ্য। কিন্তু দলটি তাদের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। তবে প্রথমে ব্যাটিং করে অল্প রানের ম্যাচকেই তারা জমিয়ে তোলে!
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে এসে জিম্বাবুয়ের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় মাত্র এক রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। প্রথম উইকেট পতনের পর মাঠে আসে দলটির ক্যাপ্টেন ক্রিগ এরভান। ওপেনার গামবেই কে সাথে নিয়ে গরে মুল্যবান ৬০ রানের জুটি। গামবেই ৩০ রান করে আউট হয়ে গেলে ভাঙে এই জুটি। পরবর্তীতে একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় ক্যাপ্টেন। ক্রিগ এরভান এর ১০২ বলে ৮২ রানে ভর করে দলীয় ২০০ রান পার করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে। ফলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার জন্য জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় ২০৯ রানের।
এই ম্যাচে সহজেই জয় পাবে শ্রীলঙ্কা এমনটাই ভেবেছিল সাধারণ ভক্ত সমর্থকরা। কিন্তু এই অল্প পুজিতেই ম্যাচকে জমিয়ে তোলে জিম্বাবুয়ের বোলাররা। দলীয় ৫৩ রানেই শ্রীলংকার প্রথম চার উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেয় সফরকারি দল। পেসার নাগরাভারগরাভার আগুন ঝরা বোলিংয়ে যখন একের পর এক উইকেট হারাচ্ছিল শ্রীলঙ্কা সেই সময় একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরমেন্স করে জানিথ লিয়ানএজ। তার অসামান্য ইনিংসের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় জিম্বাবুয়ে।
জানিথ লিয়ানএজের ১২৭ বলে ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংসটি লংকানদের জয়ের বন্ধরে পৌঁছে দেয়। লিয়ানএজ শ্রীলংকার হয়ে ম্যাচটি শেষ করতে না পারলেও সর্বশেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়। শেষদিকে চামিরার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে দুই উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শ্রীলংকা। শেষ ম্যাচে কামব্যাক করতে পারবে কি জিম্বাবুয়ে? নাকি ২য় জয় নিয়ে সিরিজ জয় করবে লঙ্কান বাহিনী?