মাছের পেটে কিভাবে গেলেন।
যখন ইউনুস (আঃ) তাঁর দীন প্রচারের আল্লাহ্ পাকের নির্ধারিত এলাকা ত্যাগ করে একটি নৌকায় গিয়ে সওয়ার হলেন তখন নৌকাটি কিছু দূর চলার পরে ভীষণ ঢেউ এসে নৌকাকে ঘিরে ধরলো।নৌকার যাত্রীরা আশংকা করলো যে নৌকা এখন ডুবে যাবে এবং সবাই প্রাণে মারা যাবে।এ অবস্থায় আরোহীরাভাবলো,নিশ্চয়ই আমাদের নৌকায় এমন কেউ আছে যে তার মালিকের বিনা অনুমতিতে পালিয়ে এসে নৌকায় উঠেছে।অপরাধী সেই লোকটিকে খুঁজে বাহির করে নৌকা পবিত্র করতে হবে তাহলে নৌকা ডুববে না।হযরত ইউনুস (আঃ) ভাবলেন,আমি আমার মালিক আল্লাহ্ পাকের হুকুম ছাড়া তাঁর নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছি সুতরাং আমিই অপরাধী,আমার কারণেই নৌকা ঢেউয়ের মধ্যে পতিত হয়েছে, আমার কারণেই এতগুলা আরোহী আজ ডুবে মরবে।অতএব আমাকে নৌকা থেকে ফেলে দিয়ে নৌকাকে বিপদ মুক্ত করা হউক।হযরত ইউনুস (আঃ) নিজেকে যাত্রীদের কাছে সমর্পন করলেন নৌকা থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়ার জন্যে।কিন্তু আরোহীরা ইউনুস (আঃ) এর চেহারা দেখে মিগ্ধ হলো।এত সুন্দর নেককার চেহারার লোক কখনও অপরাধী হতে পারেনা।তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল লটারী করবে।লটারীতে যার নাম উঠবে সেই অপরাধী হবে।তাকে নৌকা থেকে ফেলে দেওয়া হবে।অতঃপর লটারী করা হলো।কিন্তু একি?লটারীতে ইউনুস (আঃ) এর নাম উঠেছে!তারা বিশ্বাস করতে পারলো না।এত নেককার লোক কখনও অপরাধ করতে পারে না।লটারী নিশ্চয়ই ভুল নির্দেশ করেছে।সুতরাং আবার লটারী করা হবে।তাই করা হলো।এবারও হযরত ইউনুস (আঃ) এর নাম উঠলো।কিন্তু তবু তারা লটারীকে বিশ্বাস করতে পারলো না।তারা তৃতীয় বার লটারী করলো।এবারও ইউনুস (আঃ) এর নাম উঠলো।ইউনুস (আঃ) ভাবলেন,অনেক হয়েছে--আমিই অপরাধী।কিন্তু এরা আমাকে পানিতে ফেলবে না।আমার একার জন্যে এতগুলো আরোহী ডুবে মরবে তা হতে পারেনা।সুতরাং আমি নিজেই পানিতে ঝাপ দিব।এই ভেবে তিনি পানিতে ঝাপ দিলেন।সেই পানিতে একটি বৃহদাকারের সামুদ্রিকমাছ এসে তাঁকে গিলে ফেললো।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেনঃ
"স্মরণ করুণ,যখন সে পালিয়ে ভারবাহী এক নৌকায় সওয়ার হলো,অতঃপর সে লটারীতে যোগদান করলো এবং পরাজিত হলো।পরে এক বৃহদাকার মাছ তাকে গিলে ফেললো,তখন সে নিজেকে ধিৎকার দিতে লাগলো।--(সূরা ৩৭ সাফ্ ফাত, ১৪১-১৪২আয়াত)