মহারাজার প্রত্যাবর্তন ও এক টুকরো স্মৃতিঃ
সময়টা ২০১৩। বিপিএলের দ্বিতীয় আসর চলছে। থাকতাম কলেজ হোস্টেলে। দিবা-রাত্রি ম্যাচগুলো খুব কমই দেখতে পারতাম। কারন মাগরিবের আজান হওয়ার সাথে সাথেই কমন রুম ছেড়ে আমাদের নিজ নিজ রুমে চলে যাওয়া লাগতো। মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিলো। তখন আবার দেশের এন্ড্রয়েড ফোনের এত প্রচলন ছিলো না। শেষ ভরসা ছিলো পরের দিনের পত্রিকা। আর তাও পড়ার সুযোগ পেতাম একদম বিকালে। সারাদিনের নিয়ম বাধা রুটিন মেনে চলা জীবনটায় হোস্টেলে রাখা পত্রিকাটাই ছিলো খবরাখবর রাখার শেষ সম্বল।
একদিন হঠাত জানতে পারলাম বিপিএলে সেঞ্চুরি মেরেছেন তিনি। খুব আফসোস হচ্ছিল খেলাটা দেখতে পারলাম না বলে। মহা নায়কের করা শতক দেখা হলো না। দেখা হলো ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের কোন ম্যাচও।
এমনই এক সন্ধ্যায় এক বন্ধু হসপিটাল যাবে। সাথে কাউকে নিতে চাচ্ছে। সেদিন ছিলো ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স বনাম চিটাগাং ভাইকিংস এর ম্যাচ। আমি সুযোগটা হারাতে চাইনি। বললাম আমি যাবো। গেলাম তার সাথে। কলেজের মেইন ক্যাম্পাসের কাছেই 'শিন শিন জাপান হসপিটাল।' দুইজন হসপিটালে ঢুকলাম। দেখি ঢাকার ব্যাটিং চলছে। আমি আর ওর সাথে ডাক্তারের রুমে যাইনি। বললাম, ''তুমি যাও। আমি খেলা দেখি।'' তখন ১ উইকেট ছিলো ঢাকার। আমি বসার একটু পরই ২য় উইকেট। খুব খুশি হলাম। কিন্তু তিনি নামলেন না। ৩য় উইকেট গেল। এবার আরো এক্সাইটেড। এবারও তিনি নামলেন না। হতাশ হয়ে গেলাম।
পাশে বসে থাকা আঙ্কেল আমার এক্সাইটনেস খেয়াল করেছিলো। শুধালো, চট্টগ্রামের ফ্যান নাকি? জবাবে বললাম, না আঙ্কেল।' অবাক হলেন। আবার শুধালেন, তব উইকেট পড়লে এত খুশি হও যে? বললামঃ আঙ্কেল, আমি আশরাফুলের ভক্ত। এবার একটা ম্যাচও দেখা হয়নি। উপভোগ করা হয়নি লিটিল জিনিয়াসের ব্যাটিং। এখন কেউ আউট হওয়া মানে তাঁর মাঠে নামা। একটা বল হলেও তাঁর ব্যাটিং দেখে যেতে চাই।'' জবাব শুনে খুব অবাক হলেন। বিস্ময়ে। শুধালেনঃ মাইলস্টোন হোস্টেল? জবাবটা 'হ্যাঁ' ছিলো। জিজ্ঞাসা করলো, বাড়ি কই? বললাম, চাঁদপুর।' তখনো কুমিল্লা দলটা ছিলো না। আরো অবাক হলেন। আবার শুধালেন, তবে যে চট্টগ্রাম কর না? সেটাইতো তোমার অঞ্চল। জবাব দিয়েছিলামঃ আঙ্কেল, মহা নায়ক যে খেলে ঢাকার হয়ে। আমি তো তেমন, যেখানে মহা নায়ক, সেখানেই আমি।
ভাগ্যের কি খেল! মহা নায়ক আবার ফিরলেন। ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামের হয়ে খেলবেন এবার। এবার আমি চট্টগ্রামের সাপোর্টার। না, বাড়ি ওই বিভাগে বলে নয়। বরং মহারাজ যে এবার চট্টগ্রামে।
প্রিয় আশরাফুল, অনেক অনেক ভালোবাসা রইল তোমার জন্য। অনেক অনেক প্রত্যাশা তোমার কাছে। তোমার লাখো ভক্ত এখনো আশায় চেয়ে থাকবে তোমার উইলোর দিকে। দারুণ সব ব্যাটিং কারসাজি দেখবে। তোমার উত্তোলিত ব্যাটের দিকে পানিঝরা নয়নে তাকিয়ে বলবে, দেখ। এই সেই আশরাফুল। বাংলাদেশের আশার ফুল। আমাদের ভালোবাসা। হ্যাঁ আশরাফুল, তুমি এখনো আমার ভালোবাসা।