একটি উপন্যাস। সেখানে তিনটি পরিবারকে সামনে রেখে চলমান সমাজকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি আমি আমার এই প্রথম উপন্যাস 'ঘুংগ্রু আর মেংগ্রু'তে।
ঘুংগ্রু আর মেংগ্রু, একজোড়া বামন মানব-মানবী জন্মগতভাবে শারীরিক অপূর্ণতাকে স্বীকার করে নিয়ে, সমাজে আর পাঁচজন মানুষের মতো বেচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হয় তারা। কিন্তু প্রতি পদে পদে তাদের এই শারীরিক অপূর্ণতা জীবনকে থমকে দেয়। হাসি-ঠাট্টা আর ব্যংগ-বিদ্রুপে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠে তাদের জীবন।
স্বামী-স্ত্রী বামন হলেও তাদের সন্তানেরা স্বাভাবিক মানুষ হিসেবেই জন্ম নেয়। খর্বকার বাবা মায়ের কারণে তাদের জীবনও বিষিয়ে ওঠে। তাদের মেয়ের জীবন বাঁকে বাঁকে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এমনকি ভালোবাসার স্বীকৃতিও পায় না বাবা-মায়ের খর্বাকৃতির কারণে।
তবুও ঘুংগ্রু আর মেংগ্রু পরিবার অদম্য স্পৃহা ও মনোবল দিয়ে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে লক্ষ্যপূরণে যেতে সংগ্রামে লিপ্ত হয়।
একজোড়া বামন মানব-মানবীর প্রতি সমাজের অবহেলা, ব্যংগ-বিদ্রুপ দেখে পাঠকের হৃদয়ও আপ্লুত হবে, প্রশ্ন জাগবে সত্যি কি আমরা মানুষ- ঘুংগ্রু আর মেংগ্রু কি মানুষ নয়?
শিহাব আর কণা এবং মিনার মাহমুদ ও রেখা- এই দুই জোড়া দম্পতি, নিজেদের অতি কাছের মানুষদেরকে ছেড়ে, বৃত্তাবদ্ধ কর্পোরেট জগতের ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠের জীবনে নিজেদেরকে অভ্যস্ত করে তুলতে সংগ্রামে লিপ্ত। পারিবারিক সম্পর্কগুলোর ভিতরের মানসিক টানাপোড়ণ এবং সেগুলি ক্রমশ: দগ্ধ ক্ষতে পরিণত হওয়া, আবার সেগুলির থেকে উত্তরণের চেষ্টা- এসবই আমি আমার উপন্যাসে দেখানোর চেষ্টা করেছি।
পারিবারিক সম্পর্ক কিভাবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর দ্বারা নষ্ট হচ্ছে, কিভাবে এর থেকে আমরা বের হয়ে আসবো- লতা চরিত্রের উপস্থিতি এই বিষয়টিকে পাঠকের কাছে সুন্দরভাবে তুলে ধরবে আশা করছি।
মোট আট ফর্মার (১২৮ পৃষ্ঠা) উপন্যাসটি মাত্র ছয় ফর্মায় নিয়ে আসা হয়েছে প্রিয় প্রকাশক প্রিয় বন্ধু নাসির আহমেদ কাবুল ভাইয়ের নির্মাণ কৌশলে। অথচ দাম রেখেছি পাঠকের জন্য আমরা ৫ ফর্মার বইয়ের অনুরুপ।
জলছবি বাতায়ন আমার এই প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশ করছে।
উপন্যাসটির প্রচ্ছদ করেছেন প্রিয় শিল্পী চারু পিন্টু।