প্রথম পর্বের পর আসতে একটু দেরি হয়ে গেলো। ছোট বেলা থেকেই আমার একটু আধটু লেখার নেশা ছিলো। বেশ কিছু কবিতা লিখেছিলাম। হঠাৎ করেই মনে ইচ্ছা জেগেছিলো একটি গল্প লেখার। সেই কারনে আনারি হাতে কলম উঠেছিলো একটি গল্প লেখার নিমিত্বে। গল্পের থিমটা মাথায় গেথে ছিলো অনেক দিন থেকে। পর্ব আকারে লিখেও ছিলাম। মোট 07 পর্ব লেখার পর আর লেখা হয়ে উঠে নাই। আজ ভাবলাম আবার শুরু করা যাক। যেটার শুরু করেছিলাম 2 বছর আগে, সেটা শেষ করাটা খুব দরকার। সেই কারনেই নতুন প্রত্যয়ে আপনাদের সাথে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম।
পর্ব - 2
ট্রেনের চাকার সাথে লাইনের ঘর্ষনের শব্দ শুনে বুঝতে পারলাম ট্রেন থামতে যাচ্ছে। কিছু সময় পর একটি ছোট্ট ষ্টেশনে ট্রেনটি থেমে গেল। সিরাজ-উদ-দৌলা হঠাত্ করেই বলে উঠলো এখানে সে নেমে যাবে এবং অন্য একটি ট্রেনের অপেক্ষা করবে। অল্পতেই ছেলেটির উপর ভিষন মায়া জন্মে গিয়েছে আমার। তবে প্রকৃতির ধরাবাধা নিয়মে সবাইকেই বিদায় নিতে হবে। সেটা স্থায়ী হোক বা অস্থায়ী ভাবে। সবাই বিদায় নেয়। শুধু আমি যে কেন পারিনা কে জানে। ছেলেটিকে বিদায় দিলাম। ট্রেনের গার্ড থেকে জানতে পারলাম যে, এখানে বিশ মিনিটের একটা বিরতি আছে। অপরদিক থেকে একটি ট্রেন আসবে, সেটা পার করে তবেই সামনে যাবে ট্রেনটি। নিচে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। সামনে একটা চা এর দোকান। সেখানে গিয়ে একটি চায়ের কথা বললাম। কিছুক্ষন পর চা চলে এলো। সারাদিনে প্রথম চা এর কাপে চুমুক দিলাম।
source
সমস্ত শরিরে প্রশান্তি ছরিয়ে গেল। চা খেয়ে কিছুটা হাটলাম। সময় শেষ হতে বেশী দেরি নাই। অবশেষে আমার কামরাতে ফিরে আসলাম।
কবিতার ডায়রিটা নিয়ে নিখতে শুরু করলাম...
" নীল জোঁসনায় নীলাভ তুমি
লজ্জাতে হও লাল
স্নিগ্ধ ভোরে শিশির তুমি
রোদেলা সকাল।
দুপুর বেলার ক্লান্তি তুমি
বিকাল বেলায় একা
সন্ধা বেলায় উদাসী মন
রাতের স্বপ্ন দেখা
সারাদিনই তুমি শুধুই
আমার হৃদয় জুরে
তুমিই আমার স্বপ্ন আঁকো
বিশাল আকাল ফুঁরে"
......................................................
চারিদিকের আলো ক্রমেই তার উজ্জলতা হারাচ্ছে। ধরনীর বুকে নেমে আসছে আধো আলো ছায়ার সন্ধ্যা। সারাদিনের ব্যস্ততায় সকল যাত্রী কিছুটা হলেও নিজেকে এলিয়ে দিয়েছে একটু নিস্তব্দতায়। কেও কেও আবার বাইরেটা ভাল করে দেখছে ট্রেনের জানালায় মাথা বের করে।
যেহেতু আমি সময়ের কাছে বন্দী নই সেহেতু আমার কোন কিছুর তারা নেই। আমিও তাই সন্ধ্যাটা উপলব্ধি করার জন্য তৈরী হলাম। জানালার কাছে গিয়ে বসলাম। দেখতে পেলাম আশেপাশের বাড়িগুলোর লাইটের আলো তিব্রগতিতে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। রাস্তার পাশের গাছগুলোতো বদ্ধ্য উন্মাদের মতো ছুটে চলেছে ট্রেনের বিপরিতে। মনের ভিতর পুরানো অনুভুতি ঘিরে ধরলো। পৃথিবীর সবকিছুই চলমান। প্রত্যেকেই তার নিজ গতিতে চলছে তো চলছেই। তাদের একজন হয়েও আমি যেন স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছি। আমার যেন ছুটে চলার মতো কোন পথ নেই।
অবশ্য তাতে ভালই হয়েছে। নিজের মতো করে জীবনটাকে চলতে দেখছি। কোন বাধা নেই, বিপত্তিও নেই। শাসন করারও কেও নেই।
মাঝে মাঝে মনে হয় কোন কোন সময় জীবনে শাসনেরও দরকার আছে। কারন শাসনের অপর পৃষ্ঠে ভালবাসার অবস্থান। কেমন যেন শিতশিত লাখছে। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম ট্রেনের ক্যান্টিনের দিকে। এক কাপ চা খাওয়া দরকার।
চা খাওয়া শেষ করে নিজের জায়গায় ফিরে আসলাম। ট্রেনের কামারাতে দুই পাশে আলো জলছে। আলোটা আমার ভাল লাগে না। আমার কাছে অন্ধকার আর একা থাকাটাই সুখকর মনে হয়। আমার ব্যাগে একটা হ্যাট আছে। সেটা বের করে মাথায় চাপালাম। যাতে আলোটা চোখে না লাগে। চোখটা বন্ধ করে পরে থাকলাম একটু বিশ্রামের জন্য।
...... চলবে।