বৃদ্ধা মা দুধটুকু পান করার সময় দামী গ্লাসটা ফেলে দিল। গ্লাসটি ভেঙ্গে টুকুরো টুকরো হয়ে গেল। সন্তান মায়ের সাথে চিল্লাচিল্লি করে রাগে বের হয়ে গেল রুম থেকে৷
রাগ থামলে সন্তান ঘরে ঢুকলো। দেখলো একটি ছোট্ট চিরকুট লিখেছে মা। কাঁপাহাতে লেখা। তবুও অক্ষরগুলো বোঝা যায়। মনযোগ দিয়ে পড়তে লাগল সন্তান। মা লিখেছেন--
‘‘বাবা! কলিজার টুকরো আমার! আমি এখন বৃদ্ধা। হাত কাঁপে। কোন কিছুই শক্ত করে ধরতে পারিনা। তুমিও একসময় এমন ছিলে।তখন তোমাকে সবকিছু মুখে তুলে খাইয়েছি।
বাবা! এখন তো পাও চলে না। জুতোটা পরার সময় সামান্য সহযোগিতা চাই তোমার। হাটতে কষ্ট হয়। বাথরুম পর্যন্ত যাবার শক্তিটাও হারিয়ে ফেলেছি। একটু ধরো আমাকে, যাতে পড়ে না যাই।
তোমার হয়তো মনে নেই, যখন ছোট ছিলে তখন সারাক্ষণ তোমার হাত ধরে থাকতাম যাতে পড়ে না যাও।
আমার স্মৃতিদুর্বলতার জন্য রাগ করো না। শৈশবে তোমায় একটা কথা কতবার বলেছি।তবুও তুমি প্রশ্ন করেছ। রাগ করিনি কখনো। বারবার উত্তর দিয়েছি।
জানো! তোমার সাথে একটু কথা বললে মনটা কেমন উৎফুল্ল হয়। ছোটবেলায় তোমার হাসিগুলোই ছিল আমার মনের প্রশান্তি ও আনন্দ। আজো তোমার হাস্যজ্জ্বোল চেহারা আমায় শান্তি দেয়। তোমার সে হাসি থেকে এই বার্ধক্যে আমাকে বঞ্চিত করো না।
আর কটা দিন মাত্র। এখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা। জন্ম থেকে নিয়ে বড় হওয়া পর্যন্ত সর্বক্ষণ তোমার সাথেই ছিলাম আমি।
বাবা আমার! জীবন-মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে তোমাকে একটু পাশে চাই শুধু। আর কিছুই চাই না।
পুরো চিঠিটি পড়ল ছেলে। চোখ মুছতে মুছতে মায়ের হাতদুটি ধরল। বলল, "মা! ক্ষমা করে দাও।"
কিন্তু কোন সাড়াশব্দ হলো না। মায়ের হাতদুখানি যে বড় শীতল ও নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
আর মা ডাক শুনতে পাবে না মা। ! ক্ষমা করে দাও।
আর মা ডাক শুনতে পাবে না মা। চলে গেছে।
আল্লাহ্ এমন করুন অবস্হা কারও যেন না হয়।
সবাইকে পিতা-মাতার সেবা করার তওফিক দিন।
আমিন।।