একদিন রাজা বল্লভ এক গায়ের মেঠোপথে হাটতে হাটতে কোথাও যাচ্ছিল, পথিমধ্যে দেখে একটা গাছের গোরা পরে আছে, আর সেই গাছের গোরায় একটা লোক হোচট খেয়ে মরে গেলো, সেই গাছের গোরাটা এবার একটা শিয়ালের রুপ ধরলো রাজা চেয়ে চেয়ে দেখলো শিয়াল পন্ডিত কিছু দুর যাওয়ার পর এক বৃদ্ধ মহিলাকে খেয়ে ফেললো! এবার শিয়াল থেকে একটা বাচ্চার রুপ ধারন করলো! রাজামশাই সাহস করে সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো কে তুমি সত্য কথা বলো নয়তো তোমার গর্দান যাবে এই বলেই তলোয়ার বের করলেন!
থামুন মহারাজ থামুন, আমি যম, মানুষের মৃত্যুদূত আমি একেক বার একেক রুপ ধারন করে মানুষের জীবন নাশ করি! তাই? তা তাহলে বলো আমার মৃত্যু কিভাবে হবে!? আপনার মৃত্যু হবে কুমিরের মুখে! আচ্ছা এবার বলো আমার স্ত্রীর মৃত্যু কিভাবে হবে? আপনার স্ত্রীর মৃত্যু হবে সাপের কামরে! আমার ছেলেদের ও মেয়েদের কিভাবে? ওদের মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবেই হবে! এবার তুমি যাও! রাজামশাই বাড়ি এলেন চিন্তা ভাবনা করছেন কিভাবে নিজেকে বাচিয়ে রাখা যায় এবং স্ত্রীকে বাচানো যায়! রাজামশাই কাউকে কিছু বললেন না! বেশ কিছুদিন কেটে গেল হটাৎ একদিন রাজা রানী শুয়ে আছেন ঘরের চারিদিকে পাহারা আছে যাতে কোনভাবেই ঘরে সাপ প্রবেশ করতে না পারে, একি দেখছে রাজামশাই যে রশি দিয়ে মশারি টাঙ্গিয়েছে সেই রশিটা একটা বড় সাপের রুপ ধারন করে রানীকে দংশন করে চলে গেল!
রাজামশাই খুব চিন্তায় পরে গেলেন, এবার থেকে খুব সাবধান থাকতে হবে নদীর পারে যাওয়া যাবেনা! পুকুরে যাওয়া যাবে না এমনকি যেখানেই জল আছে যাওয়া যাবে না! এভাবে চলছে বেশকিছুদিন পরে রাজামশাইয়ের বড় ছেলের ঘরে এক নাতির জন্ম হলো এখন সেই নাতিকে নিয়েই
রাজার দিন কাটছে! নাতি একবার বায়না ধরলো দাদু আমি গঙ্গাস্নানে যাবো আমাকে নিয়ে যাবে, নিয়ে যেতেই হবে! কি আর করা একমাত্র নাতির আবদার রাখতেই হবে! রাজামশাই মন্ত্রীদের ও সেনাপতিদের হুকুম করলো নদীর এক জায়গায় কাচ দিয়ে ঘেরাও করতে যাতে রাজামশাই স্নান করতে পারে!
এভাবে আরোও বেশ কয়েক বৎসর কেটে গেল এবার নাতির বয়স প্রায় ১২ বৎসর হয়েছে নাতি বলছে দাদু আমি রাতে ঘুমের মাঝে খারাপ স্বপ্ন দেখি! কি স্বপ্ন দাদুভাই? দাদু আমি প্রায় রাতেই দেখি আমি জলে ডুবে যাচ্ছি, মা গঙ্গা এসে আমার কাছে পুজো চায়! দাদু আমাদের ত কোন কিছুর অভাব নেই তাহলে এবার গঙ্গা পুজোর আয়োজন কর! কি আর করা নাতির আবদার মানতেই হবে! গঙ্গা পুজা নদীর পারে করতে হয় এটা বোধহয় সবার জানা আছে তাইনা?
রাজামশাই সব মন্ত্রী ওজির নাজির সবাইকে ডেকে আদেশ করলেন যাও নদীর পারে পুজো করবো তাই নদীতে বাধঁ দেওয়ার ব্যবস্থা করো! রাজার আদেশ পেয়ে নদীর পার গেসে বড় বড় গজারি গাছ দিয়ে শক্ত করে বাধঁ দিলেন! পুজো শুরু হয়েছে এবার গঙ্গার ঘাটে অঞ্জলি দিতে হবে দাদা নাতি জলের ঘাটে আসতেই নাতি কুমিরের রুপ ধারন করে রাজামশাইয়ের ঘাড়ে কামর দিয়ে ছুটে চললেন নাতি!
আমার কথা হলো যার যেখানে যেভাবে মৃত্যু লেখা আছে সেইখানেই মৃত্যু হবে!
Download google