টিনএইজ (Teenage) বা বয়সন্ধিকাল অত্যন্ত আবেগি একটি সময়৷ সে সময়টাতে নিজেকে একটু অন্যরকম লাগে, অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা মনে হয়৷ তো ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়স হল বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক সময়৷ কারো হয়তো কিছু আগে বা কারও পরে আসে৷
আজকের ব্লক টি শুধু তাদের জন্য, যারা এরই মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বা এই সময়টা পার করছে৷
বয়সন্ধিকালে প্রথমেই যে অনুভূতি প্রকাশ পায় তা হল "যারা এতদিন ব্রেন্চের ওপারে বসে থাকতো তাদের প্রতি আবেগ সহানুভূতি ভালোবাসা, তার সাথে সারাটি জীবন কাটিয়ে দেবো, তার জন্য সবকিছু ছেড়ে দেব" এর মতো অনুভূতি ৷ আবার কোন কোন সময় কোন মুভি দেখলে বা রোমান্টিক কোন বিষয় আসলে তার কথা ভাবা এরকম অনেক কিছু যা আমাদের ওই সময় মনে হয়৷ তো ওই বয়সে এই যে বিষয়গুলো কাজ করে এগুলো স্বাভাবিক৷ কেননা এই সময়ে হরমোনাল একটি পরিবর্তন আসে যা আমাদের মানসিক ভাবে পরিবর্তন করিয়ে দেয় এবং তখন যুক্তি দিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুব কঠিন হয়ে যায় এবং তখনকার সময়ে কোন ভুল সিদ্ধান্ত যে আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে আমরা কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না৷আবার শুধু যে মানসিক পরিবর্তন তা নয় শারীরিক ও অনেক পরিবর্তন ঘটে৷ যেমন কন্ঠ পরিবর্তন হওয়া, দাড়ি গোঁফ ওঠা, বুক চওড়া হওয়া এগুলো কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাপার৷ কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো ঠিক হয়ে যায়৷ তবে এটা সত্য যে আমরা এই সময়টাতে হঠাৎ করে পরিবর্তন আসাটা মেনে নিতে পারি না৷ তাই কোন সমস্যা হলে কাউকে বলতেও লজ্জা পাই৷ তবে আমার ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা হতো সেটা হলো মুখে ব্রণ ওঠা৷ এই সময়টাতে সবাই সাধারণত চেহারা নিয়ে সচেতন থাকে কেননা তখন অন্যের সামনে নিজেকে ভাল ভাবে উপস্থাপন করতে ভাল লাগে৷ অনেকে ব্রন গুলো নখ দিয়ে তুলে ফেলে, ফলে চেহারাটাই নষ্ট হয়ে যায়৷ তাই এই সময় সকলের উচিত ছোট কোন সমস্যা হলে তা মা-বাবার সাথে শেয়ার করা৷ অনেক সময় এগুলো মা বাবার সাথে শেয়ার করতে লজ্জা লাগে৷ তাই একটু সাহস নিয়ে যদি তুমি তোমার মা বা বাবাকে সমস্যা গুলো বলো তাহলে দেখবে তারা সহজ ভাবে সমাধান দিচ্ছে৷ তুমি যতটা জটিল ভাবে নিচ্ছো ততটা জটিল ভাবে না৷
আবার রিলেশনের যে ব্যাপারটা, অনেকেই এই সময়টা রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে আবার ছ্যাকা খেলে ইমোশনের বসে অনেক কিছু করে ফেলে৷ যেমন: নিজের হাত কেটে ফেলে মাদকে আকৃষ্ট হয়৷ এগুলো ঠিক না কেননা এই বয়সে সবচেয়ে বেশি যেটি দরকার সেটি হলো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তৈরি করা৷ এই বয়সে তুমি যেটা আবেগের বশে নিচ্ছো প্রাপ্তবয়স্ক হলে তুমি সেটা যুক্তি সহকারে চিন্তা করবে৷ আর সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হলো সব সময় ভালো বন্ধুদের সাথে মেশা ও তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সবসময় মতামত বিনিময় করতে হবে৷
বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে চলতে হবেকোন বিষয় নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক জাগলে অন্য কারো সঙ্গে বা ইন্টারনেটে যাচাই করে নেওয়া৷ শারীরিক যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে যেগুলো অগ্রাহ্য মনে হয় সেগুলো থেকে দূরে থাকবে ৷ অর্থাৎ শারীরিক দূরত্ব যে বলয়টা রয়েছে তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে ৷ নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোন সময় হীনমন্যতায় ভুগবে না৷ এ সময় নিজেকে ভালবাসতে হবে৷ জানি পৃথিবীতে এসেছ সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে৷ আরেকটি যেটি বিষয় সেটি হল সেক্স এডুকেশন ৷ টিনেজ বয়সে সেক্স এডুকেশন সম্পর্কে সঠিক টা জানবে৷ পর্নোগ্রাফি কিংবা ইরোটিকা কখনো সঠিক শিক্ষা দেয় না৷ তাই সব থেকে বিরত থাকবে৷ প্রচুর পরিমাণে বই পড়বে হোক সেটা গল্পের কিংবা রিলেশনশিপের৷ ভালো পত্রিকা কিংবা ভালো কনটেন্ট পড়বে৷ অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখবে যেগুলো তোমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে৷ অবশ্যই নিজেকে সর্বদা সম্মান করতে হবে কেননা নিজেকে সম্মান করতে শিখলেই তুমি অন্যকে সম্মান দেয়ার চেষ্টা করবে৷ প্রতিটি মানুষের জীবনে কোনো না কোনো লক্ষ্য রাখা উচিত৷ কেননা লক্ষ ছাড়া কোনো কিছু সম্পূন্ন করা যায় না৷ তাই তুমি তোমার জীবনের সঠিক লক্ষ্য বেছে নেবে৷ তুমি কি হতে চাও সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে৷ কেননা এই সময়টি হল নিজেকে জানার বয়স৷ তাই সব সময় নিজের পথে চলবে এবং লক্ষ্যকে ফোকাসে রেখে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে৷
Posted from my blog with SteemPress : http://www.eccheblog.ooo/2018/08/%e0%a6%ac%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2