খুবই অবাক ব্যাপার যে আমাদের দেশের জনগণ খাদ্য নামক বস্তু খেয়ে ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে না।
একথা বলার কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে একটা সময় ভেজাল খাবার/পণ্যের ছড়াছড়ি ছিল।
মাছ থেকে মাংস, শাকসবজি থেকে দুধ, বিস্কুট থেকে চকলেট ইত্যাদি এমন কোন খাবার নেই যা ভেজাল মিশ্রিত ছিল না।প্রতিনিয়ত আমরা খবরের কাগজে দেখতে পেতাম খাদ্যে ভেজাল আর ভেজাল।ফরমালিন ছাড়া আমাদের বাজারে কোন ফলই পাওয়া যায় না।আর খাদ্যে ভেজাল ও ফলে ফরমালিন এগুলো সরাসরি আমাদের জন্য বিষ।এসব খাদ্যে ভেজাল পণ্য দ্বারা আমাদের ব্যাপকহারে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন কি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।তাই আমি বলি খুবই অবাক ব্যাপার চেয়ে আমাদের দেশে খাদ্য নামক বস্তু খেয়ে ব্যাপক হারে মানুষ মারা যাচ্ছে না।কারণ বাংলাদেশ সরকার খাবারের ভেজাল সম্পর্কে ভালো অবগত ছিলেন।বিগত কয়েক বছর ধরেই ভেজাল মুক্ত খাবার পণ্য তৈরিতে সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন।আমরা বিভিন্ন খবরের রিপোর্ট থেকে জানতে পেরেছি যে ব্যাপক মাত্রায় ভেজাল খাবার ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক সারাদেশে জব্দ হচ্ছে।বিগত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন খবরের রিপোর্টে খাদ্যে ভেজালের বিশালতা সম্পর্কেও তুলে ধরা হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।অনিরাপদ খাদ্য উপাদান ব্যবহার ও রান্নাঘর অস্বাস্থ্যকর রাখার জন্য হোটেল ম্যানেজারদেরও শাস্তি ও জরিমানা করছে।আমরা দেখেছি ভ্রাম্যমাণ আদালত পোশাক রং করার রাসায়নিক দ্রব্য ও রং ব্যবহার করার জন্য রেস্তোরাঁর লোকদের হাতে নাতে ধরে ফেলছে।ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহের জন্য সরকার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।সরকারের দুর্দান্ত পদক্ষেপের কারণেই হয়তো অনেকটা ভেজাল মুক্ত খাবার আমাদের দেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে।তাই হয়তো আমাদের দেশের জনগণ খাদ্য নামক বস্তু খেয়ে ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে না।কিন্তু আমরা দেশের নাগরিকরা কি এখনো ভেজাল মুক্ত খাবারের পুরোপুরি নিশ্চয়তা পেয়েছি।না আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চয়তা পাইনি।এখনো অধিকাংশ খাদ্য উপাদান হোটেলে ব্যাপকভাবে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রি হচ্ছে।এখনো পচা ও অনিরাপদ খাদ্য খেয়ে লোকজন ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগে সারা বছর কষ্ট পাচ্ছে।
অসৎ ও বিবেকহীন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বি এস টি আই এর নিয়ম-কানুন মানছেন না এবং তারা মানুষের খাওয়ার অনপযুক্ত খাদ্য বিক্রয় করেই যাচ্ছে।এদিকে বাংলাদেশ সরকার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে আরো বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত।তাই আমরা আশা করি যে বাংলাদেশ সরকার ও বি এস টি আই আরো সক্রিয় হবে ও তাদের দরকারি কাজ করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ক্রেতারা অন্ততপক্ষে নিরাপদ খাদ্য পাবে।আমরা সাধারণ ভোক্তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য চাই।বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি আমাদের ও দেশের সকল নাগরিকের অধিকার।আমরা দেশের নাগরিকরা ভেজাল মুক্ত খাদ্যের একটি দেশ চাই।
সবশেষে আমি অসৎ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বলবো।আপনারা ভেজাল মুক্ত পণ্য উৎপাদন করুন ও খাদ্য সরবরাহ করুন, মনে রাখবেন এই দেশ যেমন আমার তেমনি এই দেশ আপনার ও আপনার সন্তানের।এই দেশেই আপনার সন্তানের ভবিষ্যত লুকায়িত।
Image SourcePixabay
সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।ভাল থাকুন সবাই।