আমার সকল বাংলাদেশী বন্ধুগণ ও এর প্রাণপ্রিয় সদস্য ও বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন।আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন এবং আপনাদের দিন ভালো যাচ্ছে।আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা থেকে আরেকটি বাংলায় লেখা পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।
আজ সকালে আমি বাগান থেকে একটি উপকারী টাটকা সবজি সংগ্রহ করেছিলাম এবং সেই সবজিটি রান্না করে খেয়েছি।এই বিষয়ে আজ আপনাদের সাথে কথা বলবো।
চলুন কথা বলি,
বন্ধুরা, আজ মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২০ ইং।
বাংলা ১০ ই ভাদ্র ১৪২৭।
আমি আজ সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠেছিলাম।যথারীতি ঘুম থেকে উঠে নিজের ব্যক্তিগত কাজগুলো সেরে সকালের নাস্তা করে নিলাম।এরপর সকাল দশটায় গেলাম আমাদের বাড়ির পাশের বাগানে।আমাদের বাড়ির পাশে একটি সবুজ বাগান আছে।এটা আমাদের কাছে একটি সবুজ বাগান নামে পরিচিত।বাগানে খাবারের মতো বেশ কিছু সবজি ও সবুজ পাতা রয়েছে।
আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝে বাগান থেকে এসব সবজি ও সবুজ পাতা খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করি।এছাড়া এই বাগানে অনেক রকমের ঔষধি গাছও রয়েছে যা আমাদের জন্য খুবই উপকারী।এই বাগান থেকে আমার প্রায় অনেক রকমের সবজি ও সবুজ পাতা খাওয়া হয়েছে এবং অনেক ওষুধি গাছের পাতাও খাওয়া হয়েছে।কিন্তু এই বাগান থেকে এখন পর্যন্ত আমার একটি সবজি খাওয়া হয় নাই।সেই সবজিটা সংগ্রহ করতেই আজ বাগানে গিয়েছিলাম।আর সেই সবজিটার নাম হচ্ছে একটি কচু।
হ্যাঁ বন্ধুরা কচু, আর সেই কচুটা অনেক বড় আকারে এরা অনেক বড় হয়।আমি এখানে অনেক ছবি শেয়ার করেছি, ছবিতে আপনারা কচুটি দেখতে পাচ্ছেন।
আমি একটি দা নিয়ে কচুটি কাটতে গিয়েছিলাম ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।এছাড়া উপরে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি একটি ভিডিও শেয়ার করেছি, ভিডিওতে আমি কচু গাছটি সম্পর্কে বলেছি।ভিডিওতে আপনারা আমাদের বাড়ির পাশের বাগানটি ও কচু গাছ গুলো দেখতে পাবেন।
আজকে আগ্রহ নিয়ে বাগানে গিয়েছিলাম সেই কচু কেটে আনতে।আমি এখন পর্যন্ত আমাদের বাড়ির পাশের বাগানের এই কচু খাইনি।আমার এক চাচা এই কচু খুব খায়।আমার চাচার ভাসায়, এই কচু খাই বলে আমার শরীরে বিষ বেদনা থাকে না আমার শরীরে রস বাত আসে না।আমার চাচা আমাদেরকে বলছিলো এই কচু খাওয়া খুবই উপকারী এই কচু শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে দেয়।
তাই আমার চাচার মুখের সেই কথা শুনে আমি আগ্রহ নিয়ে কচুটি কাটতে গেলাম।সেখানে অনেক বড় বড় কচু রয়েছে।আমি একপাশ থেকে কচুর একটা অংশ কাটলাম।আমি কচুটির পাতা ফেলে দিয়ে শুধু ডাইগা নিলাম।ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি একটি দা দিয়ে কচুটি কেটে এনেছিলাম এবং পাতাটি ফেলে দিয়েছি।এরপর আমার মাকে রান্না করার জন্য কচুটি কাটতে বললাম।এবং আমার মা এটি সুন্দরভাবে কাটলেন।
চলুন জানি এটা কিভাবে রান্না করতে হয় এবং কিভাবে রান্না করলে সুস্বাদু হবে,
আমরা অনেকেই মনে করি এই কচুটি খেলে একটা চুলকানির ভাব হয় মানে অনেকের গলায় চুলকানির ভাব হয় (তবে এটাতে চুলকানির ভাব থাকলেও এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি এতে কোন সন্দেহ নেই)।তাই এই কচুটি প্রথমে কুচি কুচি করে কেটে পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে।সিদ্ধ করার পর এটি হাতের মুঠোয় নিয়ে চিপরাতে হবে।চিপরিয়ে পানি বের করে দিতে হবে।সিদ্ধ করে এভাবে পানি চিপরিয়ে বের করে দিলে তাহলে আর চুলকানির ভাব থাকবে না।
চিপরানো হয়ে গেলে এটির সাথে মরিচ বাটা, হলুদ বাটা, রসুন বাটা, আদা বাটা, জিরা বাটা, পেঁয়াজ, লবণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইত্যাদি মসলা পরিমাণমতো মেশাতে হবে।তারপর রান্না করার জন্য একটি পাত্র গ্যাসের চুলায় দিয়ে তাতে তেল ঢেলে দিতে হবে।এরপর সেই তেলের মধ্যে এটি নিজের ইচ্ছে মত ভাজতে হবে।এরপর হয়ে যাবে সুস্বাদু কচু শাক ভাজা।এবং ভাজার পর এটা আপনি নিঃসন্দেহে খেতে পারেন।এটা যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি আইটেম।
এই আইটেমটি নাম হচ্ছে কচু শাক।কচু শাকটি পরিবেশন করার পর আমি কিছু ছবি তুলেছিলাম।ছবিগুলো এখানে শেয়ার করলাম। ছবিতে আপনারা আইটেমটি দেখতে পাচ্ছেন।
বন্ধুরা এই কচু শাক আমাদের শরীরের ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করে।এই কচু শাক আমাদের রক্ত পরিষ্কার রাখে।এই কচু শাক খেলে আমাদের পেট পরিষ্কার থাকে, পেটের বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্ত থাকা যায়।এছাড়া এই কচু শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই কচু যদি আপনারা রোপণ নাও করেন তবুও দেখবেন আপনার বাড়ির পাশের সবুজ প্রকৃতির মাঝে এটি জন্মেছে।আসলে এগুলো হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার দান।আর এটা বিশ্বাস করতে হবে মহান সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতির মাঝে আমাদের জন্য অনেক স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়ার জিনিস রেখেছেন।আমরা যদি আমাদের বাড়ির পাশের বাগান কিমবা সবুজ প্রকৃতির মাঝে একটু খোঁজ করি তাহলে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারী সবজি ও সবুজ পাতা পেতে পারি।এছাড়া আমরা আমাদের বাড়িতে কিংবা বাড়ির পাশের বাগানে অনেক সবজি গাছে লাগিয়েও খেতে পারি।
বাজার থেকে আমরা যতই সবজি ক্রয় করি না কেন, নিজেদের বাড়ি কিংবা বাড়ির পাশের বাগান থেকে সংগ্রহ করা সবজি অনেক ভালো স্বাস্থ্যসম্মত এবং এগুলোর উপকারিতাও একটু বেশি।তাই আসুন আমরা আমাদের বাড়ির পাশের বাগানের দিকে নজর দেই এবং বাগানে সবজি গাছ লাগিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি।আর বাগানের সবুজ প্রকৃতি রক্ষা করি।
মনে রাখবেন বাগানের এই সবুজ প্রকৃতির মাঝে আমাদের জন্য অনেক উপকারী গাছ রয়েছে, যা আমাদের জন্য সত্যিই খুব দরকারি।বন্ধুরা এভাবেই আজ সকালে আমি বাগানে গিয়ে একটি উপকারী সবজি সংগ্রহ করেছিলাম এবং সংগ্রহ করার পর রান্না করে খেয়েছি।আর এই বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, যাতে আপনারা অনেকেই এই সবুজ প্রকৃতি, বাগান ও সবুজ প্রকৃতিতে থাকা সবুজ সবজি ও পাতা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
তো বন্ধুরা সবাই ভালো থাকবেন।আমি আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।