গাজর আমাদের অতি প্রিয় একটি সবজি। গাজর যেমন তরকারী হিসেবে মানিয়ে যায় ঠিক তেমনই সালাদ ও ডেসার্ট তৈরীতেও এটি সমানভাবে উপযোগী আর সাথে রয়েছে এর অসাধারন পুষ্টিগুন ।
এর পুষ্টিগুনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং এটি এন্টি এজিং উপাদান হিসেবেও কাজ করে। তাছাড়াও রয়েছে এর আরো নানাবিধ উপকারিতা ।
তাই আজকে নিয়ে এলাম চিরাচরিত কিন্তু ভিন্ন স্বাদের একটি রেসিপি । গাজরের হালুয়া। যা খুব সহজেই অল্প সময়ে এবং অল্প উপাদান দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন এবং যা আপনার খাবারে বৈচিত্র্য আনার সাথে সাথে যোগ করবে পুষ্টিগুন!
তাই বাসাতেই অল্প সময়ে বানিয়ে ফেলুন মজাদার স্বাদের এই গাজরের হালুয়া ।
চলুন তবে পুরো প্রক্রিয়াটি দেখে নেয়া যাকঃ
উপকরনঃ
১। গাজর – ১১/১২ টি
২। ডানো গুড়ো দুধের মিনি প্যাকেট – ৩টি
৩। চিনি- পরিমানমত বা স্বাদ মত
৪। এলাচ- ৩টি
৫। দারুচিনি- ১টি
৬। ঘি – পরিমান মত
৭। তরল দুধ – ১ কেজি
প্রক্রিয়াঃ
প্রথমে গাজরগুলো ভাল করে পানিতে ধুয়ে নিয়ে কুচি করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যে যার সুবিধামত যন্ত্র যেমন- ছুড়ি , গ্রেডার বা বটি এগুলোর যেকোন একটি দিয়ে গাজরগুলো কুচি করে নিতে পারেন।
তবে আমি এক্ষেত্রে বটি দিয়ে কুচি করে নিয়েছি কারন এতে করে গাজরগুলো থেঁতলে যায়নি, খুব সুন্দর একটা চিকন কুচি হয়েছে। গ্রেডার দিয়ে কুচি করলে কুচিটা একটু থেঁতলে ধরনের হয়।
গাজরগুলো কুচি করা হয়ে গেলে সেগুলো একপাশে রেখে দিতে হবে ।
এরপর তরল দুধগুলো চুলোয় অল্প আঁচে বসিয়ে দিন । সাথে ডানো গুড়ো দুধের মিনি একটি প্যাকেট মিশিয়ে নিন। এমনভাবে তরল দুধের সাথে গুড়ো দুধ মেশাতে হবে যেন দানা দানা না থাকে। যেন গুড়ো দুধের সাথে সমানভাবে মিশে যায়। তরল দুধ ও গুড়ো দুধ মেশানো হয়ে গেলে অল্প আঁচে চুলোতেই রেখে দিন। ধীরে ধীরে ঘন হয়ে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
দুধ চুলোয় অল্প আঁচে বসিয়ে রেখে পাশাপাশি এলাচ গুলো হামানদিস্তা দিয়ে ভাল করে গুড়ো করে নিন। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এলাচের ভেতরের দানাগুলো ভাল করে গুড়ো হয় নাহলে সেগুলো দাঁতের নিচে পড়ে অস্বস্তি তৈরী করবে।
তাছাড়াও যদি এলাচ ভাল করে গুড়ো করে ফেলা যায় তাহলে পুরো খাবারে খুব সুন্দর একটা স্বাদ ও ঘ্রান আসে।
দারুচিনি যদি খুব বেশী বড় হয় তবে ২/৩ তিন টুকরো করে নিতে হবে। তবে খুব বেশী ছোট করা যাবে না কারন তাহলেও দারুচিনির টুকরোগুলো দাঁতের নিচে পড়ে অস্বস্তি তৈরী করবে। তাই দারুচিনির টুকরোগুলো খুব বেশী বড় ও না আবার খুব বেশী ছোট ও না এভাবে করে ভেঙে নিতে হবে।
সাথে সাথে কাঠবাদাম, পেস্তাবাদামও কুচি করে কেটে নিতে হবে এ সময়েই এবং আলাদা পাত্রে সংরক্ষন করতে হবে ।
এরপর একটি লোহার কড়াইয়ে ৮/৯ চা চামচ ঘি নিয়ে নিন এবং অল্প আঁচে চুলায় চড়িয়ে দিন। তারপর ধীরে ধীরে সেই ঘিয়ের মধ্যে এলাচ গুড়ো ও দারচিনির টুকরো গুলো দিয়ে অল্প আঁচে ২/৩ মিনিট ভাজতে হবে ।
২/৩ মিনিট পরে ঘি, এলাচ ও দারুচিনির মিশ্রনের মধ্যে গাজর কুচিগুলো ঢেলে দিয়ে অল্প আঁচে প্রায় ২০/২৫ মিনিট ভাজতে হবে।
এরপর গাজরের সাথে যখন ঘি ও মশলাগুলো ভালভাবে মিশে যাবে ও ভাজা হয়ে যাবে এবং গাজরে খুব সুন্দর একটা রঙ আসবে তখন গাজরের মধ্যে তরল দুধগুলো ঢেলে দিতে হবে। আমি এক কেজি দুধকে জাল দিয়ে প্রায় আধা কেজি করে নিয়েছিলাম।
এখন এই হালকা ঘন তরল দুধ ভালভাবে ভেজে নেওয়া গাজরের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে। এরপর গাজরের সাথে দুধ ভালভাবে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে ।
ভালভাবে মেশানো শেষ হলে এয়ার টাইট ঢাকনা দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। এরপর ঢাকনা খুলে নাড়তে হবে কারন তা না হলে পাত্রে গাজর লেগে যাবে এবং নিচে থেকে পুড়ে যেতে থাকবে। তাই সাবধানে নাড়তে হবে যেন নিচে লেগে না যায়।
এরপর পরিমানমত চিনি দিতে হবে। যার যার স্বাদ অনুযায়ী চিনি দিতে হবে। আমি এখানে সাড়ে ৪ টেবিল চামচ চিনি দিয়েছি। এতে হালকা মিস্টি হয়েছে যা একটি মজাদার মিস্টি স্বাদ তৈরী করেছে।
চিনি দেবার পরে আরও ৫ মিনিট নেড়ে নেড়ে চিনিটা ভালভাবে গাজরের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। চিনির পানিটা টেনে এলে তখন বাকী ২ প্যাকেট গুড়ো দুধ আস্তে আস্তে ছড়িয়ে দিতে হবে। গুড়ো দুধগুলো শুকনোই ছড়িয়ে দিতে হবে গাজরের মধ্যে এতে করে মাওয়ার একটি স্বাদ তৈরী হবে।
গুড়ো দুধ ছড়িয়ে দেবার পরে অল্প আঁচে কিছুক্ষন নেড়েচেড়ে নিতে হবে। তারপর ২ চা চামচ ঘি দিয়ে নেড়েচেড়ে চুলো থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। ব্যস তৈরী হয়ে গেল মজাদার স্বাদের গাজরের হালুয়া ।
এরপর আপনার পছন্দমত ডেকোরেশন প্লেটে গাজরের হালুয়াগুলো নামিয়ে নিন। এবং আগেই কুচি করে কেটে রাখা বাদাম দিয়ে ডেকোরেশন করে পরিবেশন করুন।
তাহলে আর দেরী কেন, খেতে অসাধারন স্বাদের এই গাজরের হালুয়াটি আজই বানিয়ে ফেলুন ।