চাকরি কুদ্দুস মিয়াকে দিয়ে আর হলো না। গত সপ্তাহের গল্প পড়ে বুঝতে পেরেছেন আশা করি। তাই সে চিন্তা করল- ব্যবসায় নামবে।
কিসের ব্যবসা করবে- ভাবতে ভাবতে কুদ্দুস মিয়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারল না। ফোন করলো তার বাল্যবন্ধু আবুল হোসেনকে।
আবুল হোসেনের ফ্লেক্সিলোডের দোকান আছে। সে পরামর্শ দিলো- এর চেয়ে ভাল ব্যবসা আর হয় না। নগদ টাকা। কোন বাকি নাই। টাকা কালেকশনের ঝামেলা নাই।
কুদ্দুস মিয়ারও বিষয়টা মনঃপুত হল। গলির মোড়ে একটা ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকান দিলো। বরাবরের মতো এবারও কপাল মন্দ। প্রথম দিনেই ভুল করে ফেলল কুদ্দুস।
অবশ্য কুদ্দুস মিয়ার দোষ কি? দোষ তার কপালের। একজন বিকাশ করার জন্য নাম্বার লিখে এনেছে: 01988608910..
কিন্তু কুদ্দুস মিয়া কাগজটি ধরেছিল উল্টো করে। ফলে সে মনে করেছে নাম্বারটি হবে: 01680988610.. এবং সাথে সাথে এই নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে।
আবুল হোসেনকে ফোন দিল কুদ্দুস মিয়া। সব শুনে আবুল হোসেন বলল, আরে। এটা কোন ব্যাপার? গত সপ্তাহে তো আমিও ৫০০০ টাকা পাঠাইয়া দিছিলাম ভুলে।
-সে টাকা উদ্ধার করেছিস কেমনে?
-খুব সহজ। তারে শুধু একটা মেসেজ পাঠায়েছি। সে টাকা ৫ মিনিটের মধ্যে পাঠাইয়া দিছে।
-কস্ কি আবুল! ৫ মিনিটের মধ্যে টাকা ব্যাক! কি মেসেজ পাঠায়েছিলি?
-মেসেজে লিখছিলাম- গলাকাটা বক্কর ভাই এর দলে আপনাকে স্বাগতম। দলে যোগ দেওয়ার জন্য সম্মানী হিসেবে আপনাকে ০৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। আপনি বক্কর ভাইয়ের দলে যোগ দিতে সম্মত থাকলে টাকা ক্যাশ আউট করুন। আর সম্মত না থাকলে টাকাটি রিটার্ন পাঠিয়ে দিন।
কুদ্দুস মিয়া লাফিয়ে উঠল খুশিতে, আরে, এটা তো দারুন আইডিয়া! আমি মেসেজে না, ডাইরেক্ট ফোনে এই পদ্ধতি এপ্লাই করতেছি। টাকা না দিয়ে যাইবো কই? আবুল হোসেন, তুই আমার আসলেই প্রাণের দোস্ত।
কুদ্দুস মিয়া ফোন করলো। ফোন ধরার সাথে সাথে বলল, ভাই আপনি আমারে চিনবেন না। আমি নব্য জেএমবির দলের একজন সদস্য। আপনাকে আমরা আমাদের দলে জন্য মনোনীত করছি।
ওপাশ থেকে বলল, কী বলছেন এসব! আপনি জানেন আমি কে? আমি এনএসআই'য়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর রহিম শেখ বলছি।
-আপনি এনএসআই'এর ডিরেক্টর হন, আর এসিআই কোম্পানির ডিরেক্টর হন, এইটা আমার দেখার বিষয় না। আপনারে সিলেক্ট করছি এবং টাকা পাঠাইছি। আমাদের দলে যোগ দিলে আরো টাকা পাবেন। কিছুই করতে হইবো না। মাঝে মাঝে একটু গোলাগুলি করতে হবে শুধু। আপনি যদি সম্মত থাকেন তাইলে টাকাটা ক্যাশ আউট কইরা গ্রহণ করেন, আর যদি সম্মত না থাকেন- তাহলে টাকাটা রিটার্ন পাঠাইয়া দেন।
-বুঝতে পেরেছি। আমি টাকাটা সঙ্গে করে নিয়ে আসতেছি। আপনি যেখানে আছেন, সেখানে অপেক্ষা করেন।
ফোনটা কেটে গেল। টাকা চলে আসতেছে। কুদ্দুস মিয়া খুশিতে বাকবাকুম হয়ে আবার আবুল হোসেনকে ফোন দিল।
-আবুইল্লা রে, তুই আমার অনেক বড় উপকার করলি। সে নিজেই টাকা নিয়ে আসতেছে।
-মানে কি! তুই কি তাকে ঠিকানা দিয়েছিস?
-না তো!
-তাইলে তোর ঠিকানা পাইবো কই? কেমনে আসব? টাকা নিয়ে আসবো কেন? পাঠিয়ে দিলেই তো পারতো!
-এটা তো চিন্তা করি নাই!
-ঘটনা কি! ব্যাপার একটু খুইল্লা বল দেখি।
কুদ্দুস মিয়া সব কিছু বলল। শুনে আবুল হোসেন আর্তচিৎকার করে উঠলো।
-তুই শালা কামডা করছিস কি! এনএসআই মানে বুঝিস? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোয়েন্দা। আজকে রাজহাঁসের ডিম তোর কপালে আছে রে দোস্ত।
-কি বলিস এই সব। আমার যে ডর করতেছে! সব তোর দোষ। আমিতো তোর বুদ্ধি শুইনা..
-তাড়াতাড়ি পালা দোস্ত। সে তোর নাম্বার ট্র্যাক করে কিছুক্ষণের মইধ্যে তোর দোকানে চলে আসবে।
কুদ্দুস মিয়া বের হতে যাবে, এমন সময় তার দোকানের সামনে ভয়ঙ্কর সাইরেন বাজাতে-বাজাতে ০২ প্লাটুন পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ালো। পুলিশ নেমে সঙ্গে সঙ্গে বন্দুক তাক করে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলল তার দোকান।
কুদ্দুস মিয়া আতঙ্কে ঢোক গিলল..
আমি প্রতি রবিবার একটি করে রম্য গল্প লিখছি #bdcommunity -তে। এতে কুদ্দুস মিয়া চরিত্রটির বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিনোদনের পাশাপাশি স্যাটায়ার হিসেবে সমাজের অনিয়ম তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। সবগুলো লেখায় #sundayfun ট্যাগ ব্যবহার করি, যাতে পাঠকগণ চাইলেই রম্যগল্পগুলি সহজে খুঁজে পান। এই প্রকল্পের আরেকটি গল্প আজ লিখলাম। নির্মল বিনোদনের জন্য আগের গল্পগুলোও চাইলে পড়তে পারেনঃ
...কুদ্দুস মিয়ার ডায়াগনোসিস...
...কুদ্দুস মিয়ার ব্যাংক একাউন্ট...
...কুদ্দুস মিয়ার পার্সোনাল সেক্রেটারি...
আত্মকথনঃ
আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।
- Hive: My Blog
- LeoFinance: My Leo
- Dtube: My Tube
- 3speak: My Vlog
- Twitter: My Tweet
- FB: My Profile
- Pinmapple: My Tour
- TravelFeed: My Feed
"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"
জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি