মুসলিমদের জন্য এক বিশেষ রহমতের মাস হলো রমজান।এর মাঝেই লকডাউন।স্থবির সব কিছুই।আগে মাঝে মধ্যে পুরান ঢাকা বা বিভিন্ন জায়গায় ইফতার করা হতো।কিন্তু বাসায় আটকা পরার জন্য দেখা যায় যে ঘরেই কিছু না কিছু বানানো হচ্ছে।আজকে যেই রেসেপি সবার সাথে ভাগাভাগি করতে চাচ্ছি তার কি নাম দিবো তাই ভাবছি! কখনোই নিয়ম মেনে রান্না করতে কখনোই ভালো লাগে না আমার!দেখা যায়, হাতের কাছে যায়ই পাই তা দিয়ে নতুন কিছু প্রচেষ্টা চালাই।সব সময় যে সফল হই,তা নয় কিন্তু!এর জন্য যথেষ্ট আম্মু কাছে বকুনি খেতে হয়েছে।তার পরেও আমার প্রচেষ্টার কোন কমতি হয় না।
মাছ বরাবরই আমার কম পছন্দের। আম্মু মাছ রান্না করলে, দেখা যায় যে আমি ডিম ভাজি দিয়েই ভাত খেয়ে ফেলি।এবার ও সেই একি ঘটনার পুনরাবৃত্তি! ইফতার এর পর মানে সন্ধ্যার আরো পরে আমরা সবাই রাতের খাবার খেয়ে থাকি।তবে খাবারের পূর্ব এ দেখি আম্মু মাছ রান্না করেছে। মুডটাই গেলো চলে।ভাবলাম নিযে কিছু বানিয়ে ফেলি।খেতে যেমনই হোক, আমিই তো খাবো।আপু ও আমার দলে এসে ভড়লো।যেই ভাবা, সেই কাজ।নেমে পরলাম কাজে।প্রথমেই ফ্রিজ গিয়ে দেখলাম কি কি আছে। আশাহতই হতে হলো। টমেটো, আলুর চপ আর ডিম ছাড়া আর কিছুই তেমন পেলাম না। তবে নুডুলস রান্না করার জন্য সব রকন উপাদানই বাসায় থাকে সবর্দা।তাই ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে, যা পেয়েছি তা দিয়ে কাজ শুরু। মাঝে ম্যাগি স্বাদে ম্যাজিক এর একটা প্যাকেট নিলাম।
উপকরনের তালিকাঃ
সিদ্ধ ভাত(ঝরঝরে হলে ভালো হয়)
ঘি/তেল
টমেটো ১টি
ডিম৷৷ ১টি
আলু (সিদ্ধ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে)
সয়াসস
ম্যাগি স্বাদে ম্যাজিক ১টি
কাচামরিচ (পরিমান মত)
পেয়াজ কুচি
লবণ ( স্বাদ মতো)
এবার আসি প্রস্তুতিতেঃ
প্রথমে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে কড়াই দিয়ে দিতে হবে।এবার তেল অথবা ঘি যেকোন কিছুই দিতে পারেন।তবে আমার কাছে ঘি এর ঘ্রাণটা বেশ ভালোই লাগে।দেখা যায় শুধু রান্না করা ভাত ঘি দিয়ে খেতে আমার খুব ভালোই লাগে।কিন্তু যাদের ভালো লাগে না, তারা শুধু তেল ও দিতে পারে!তাই এই রান্নায় আমি ঘি ই ব্যবহার করব।যথারীতি ঘি দিলাম কড়াইয়ে। এবার পেয়াজ কুচি দিয়ে ভালোভাবে ভাজতে লাগলাম যতক্ষণ না বাদামী রং ধারন করে।
এবার টমেটো,কাচামরিচ কুচি একে একে দিয়ে দিলাম।তারপর আলুর মিশ্রণ দিয়ে দিলাম।এরপর একে একে সয়াসস, লবন আর ম্যাগি স্বাদে ম্যাজিক দিলাম, সবশেষে দিলাম ডিম।এভাবে সব কিছু ভালোমতো মিশে গেলে এবার সিদ্ধ ভাত দিয়ে দিলাম।সবকিছু ভালোভাবে নেড়েচেড়ে গরম গরম পাত্রে পরিবেশন করলাম।যেহেতু স্বল্প সময়ের, স্বল্প আয়োজনে রান্নাটি প্রস্তুত করা যায় আর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।তাই অনায়াসেই যে কেউ একবার চেষ্টা করলেই বানিয়ে ফেলতে পারবে।ইফতারে একটু ভিন্নতা মুখের রুচির ভিন্নতা ও আনে।